কক্সবাজারে টাকা দিয়ে শুটিং নয়, সোচ্চার নাটকের মানুষ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ সমুদ্র সৈকত। দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এখানে নাটক সিনেমার শুটিং করে আসছেন নির্মাতারা। কেবল স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতিক্রমেই এতোদিন শুটিং করা হতো এখানে। এখন সে জায়গায় এসেছে নতুন নিয়ম। শুটিং করতে হলে এখন থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে গুণতে হবে । এর বিরুদ্ধেই গতকাল থেকে সোচ্ছার হয়েছেন অভিনয়শিল্পী, পরিচালক , প্রযোজক ও নাটকের কলাকুশলীরা। ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের প্রতিবাদের ভাষা।

নাট্যাঙ্গনের মানুষেরা তাদের ফেসবুক ওয়ালে লিখছেন,

বেশ কবছর ধরেই কক্সবাজার এ শুটিং করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় । কিন্তু এবার এবার নতুন করা হয়েছে ।প্রতিদিনের শুটিং এর জন্য দশহাজার টাকা করে দিতে হবে।
এবং এই অনুমতি ও টাকা জমা দিতে আট দশ টেবিল ঘুরতে হয় । এটা কেমন কথা ! এতো টাকা কেনো দিতে হবে ! স্বাধীন দেশে কাউকে বিরক্ত না করে শুটিং করতে গেলে কেনো টাকা দিতে হবে। প্রাইভেট প্রপার্টিতে শুটিং করতে গেলে না হয় তার মালিকের শর্ত অনুযায়ী কাজ করবো কিন্তু সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে এতো টাকা দিতে হবে কেনো। গত বিশ বছরে জগতের সকল কিছুর মূল্য বেড়েছে শুধু বাড়েনি নাটকের মূল্য, বরং কমেছে ।

চ্যানেল যতো বাড়ছে ততো নাটকের মূল্য কমছে । একটি নাটকের বাজেট থাকে কতো টাকা । কক্সবাজার এ শুটিং করতে যদি একটি নাটকে এক্সট্রা আরো বিশ তিরিশ হাজার টাকা খরচ হয় তবে সেটা কোথায় গিয়ে ঠেকে। আজকে সমগ্র দেশের মানুষের কাছে কক্সবাজার পরিচিতি পেয়েছে নাটক সিনেমার মাধ্যমে । সেখানে কক্সবাজারকে জনপ্রিয় করবার জন্য প্রশাসনের অবদান কতোটুকু ? নোংরা সমুদ্র সৈকত , পর্যটকদের নিরাপত্তা কতটুকু দিতে পেরেছে স্হানীয় প্রশাসন? দিনের বেলা নির্জন সৈকতে , সন্ধ্যায় সৈকতে যেতে মানুষ এখনো ভয় পায় । এমন একটা শহরে তারা নাটকের মানুষদের কতোটুকু সহযোগিতা করতে পারছে ।উল্টো মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়া । এ কেমন অন্যায় ! সেখানকার বড় কর্তা নাকি বলেন” আরে আপনারা নাচ গান করবেন সেইখানে দশ হাজার টাকা এইটা কোনো ব্যাপার ? ” তারা খোঁজ রাখেন না একটা নাটক করতে গিয়ে প্রযোজক , পরিচালক এর এদিকে প্রাণ যায় যায় অবস্থা । শুটিং এর জন্য অনুমতি নেয়ার প্রচলন থাক । প্রডিওসার এসোসিয়েশন , ডিরেক্টরস গিল্ড এর চিঠি নিয়ে কাজ করবার নিয়ম থাক । যাতে আজেবাজে মানুষ জন অপব্যবহার না করতে পারে । সংগঠনের চিঠির মাধ্যমে প্রশাসন অনুমতি দিক, কিন্তু টাকা দিয়ে। তাও দশ হাজার টাকা প্রতিদিন।
অসম্ভব । নাট্যকার , প্রযোজক , অভিনয় শিল্পী , পরিচালক সহ ইন্ডাস্ট্রির সবাই আওয়াজ তুলুন ভাই ।সবাই কি চাচ্ছে নাটক সিনেমা সব বন্ধ হয়ে যাক !!!! আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষিত রাখবার দায়িত্ব আমাদেরই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *