দুই হাজার টাকায় পুলিশের হাত থেকে রক্ষা!

কক্সবাজারে শুটিং করতে গেলে টাকা লাগে। এ নিয়ম অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। ঠিক কবে থেকে এ নিয়ম চালু হয়েছে, সেটি জানা যায়নি। তবে এই শুটিং অনুমোদনের জটিলটায় শুটিং স্পট থেকে পুলিশ যাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারে শুটিং অনুমোদনের জটিলতায় ২০১৬ সালে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল নাট্য নির্মাতা মাহমুদ দিদারকে। তিনি ‘নির্জন উপকূলে’ নামের একটি নাটকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন সেখানে। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে দিদার বলেন, ‘শুটিং করতে গেলে ওরা একটা ফান্ড নেয় যেটার নাম আমোদ প্রমোদ ফান্ড। যে টাকাটা তারা নিচ্ছে, সেগুলো কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা উত্তর নেই।

আমি ২০১৬ সালে সমস্যায় পড়েছিলাম। ওখানে নুরুল হুদা চত্বর আছে। সেখানে নাটকের শুটিং করতে গিয়েছিলাম। তখন একজন মেজিস্ট্রেট এসে বললেন, এখানে শুটিং করার কোনো পারমিশন দেওয়া হবে না। করতে হলে টাকা দিতে হবে, না দিলে আমার সঙ্গে আপনাদের যেতে হবে।

এরপর ওই মেজিস্ট্রেট আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করলেন। কারণ, আমরা টাকা জমা না দিয়ে শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। এটা এক ধরনের চাঁদাবাজি।

তখন দুহাজার টাকা দিলে শুটিং করতে দিত। কিন্তু কেন আমরা দুহাজার টাকা দেব? এটি (কক্সবাজার সৈকত) তো ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। এটা তো একটা জাতীয় সম্পদ।’

পারমিশনের টাকা দেওয়ার বিনিময়ে পরিচালকর হিসেবে তিনি কোনো সুবিধা পেয়েছেন কি না, সেটির জানতে চাইলে দিদার বলেন, ‘না কোনো ফ্যাসালিটিস নেই।’

অনুমোদনের টাকা না দিলে তথা পারমিশন জটিলতার কারণে এই ধরে নিয়ে যাওয়ার সূত্রপাত সম্পর্কে দিদার বলেন, ‘যে মেজিস্ট্রেট এ ধরনের অ্যাকশনগুলো চালু করেছিলেন, তান নাম ‘তুষার আহমেদ’। তিনি অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের অ্যাকশন নেওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি ভুল বুঝিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বৈধ করে নিয়েছিলেন। তিনি বুদ্ধি দিয়েছিলেন যে, আমরা বিভিন্ন সময় এখান থেকে টাকা তুলে খাবে। আমার সামনে কক্সবাজারের ডিসি তুষার আহমেদকে কুলাঙ্গার পর্যন্ত ডেকেছিলেন। তিনিই মূল হোতা।’

শুধু মাহমুদ দিদারই নয়, ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রের শুটিং অনুমোদনের জটিলতায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে। তিনি সেই সমস্যা সেখানেই মিটিয়ে আসেন বলে, এ বিষয়ে আর বিস্তারিত বলতে চাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *