১১ সিটিতে পশু জবাইয়ের স্থান ২ হাজার ৯৩৬টি

রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ১১ সিটি কর্পোরেশনে মোট ৯৮টি কোরবানির পশুর হাট বসছে। এসব হাটে অন্তত ৭ লাখ ৪৭ হাজার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পরিবেশবান্ধবভাবে এসব পশু জবাই নিশ্চিত করতে এবার ২ হাজার ৯৩৬টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরের বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখতে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মতবিনিময়ে নগরবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান এলজিআরডি মন্ত্রী।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই নিশ্চিত করতে দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব সংস্থার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশে নির্ধারিত স্থানের আয়োজন করা হবে। আর জনগণ চাইলে নিজেদের বাসা-বাড়িতেও কোরবানির পশু জবাই করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের নিজ দায়িত্বে পরিবেশবান্ধব উপায়ে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই উন্মুক্ত স্থান বা সড়কে পশু জবাই করা যাবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি এসব নির্দেশনা না মানেন তবুও আমরা কিছু বলব না। কেননা এ ব্যাপারে কোনো আইন নেই, শাস্তিরও বিধান নেই। আর ধর্মীয় বিষয়ে শাস্তির বিধান রাখাও উচিত হবে বলে আমরা মনে করি না। জনগণকে এটা বুঝতে হবে; শহর বা গ্রামের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশপ্রেমিক জনগণ হিসেবে এটা সবারই মেনে চলা উচিত।

ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ৬২০টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে পশু কোরবানি করার সুন্দর পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করব। নগরবাসীকে এসব স্থানে পশু জবাইয়ের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

এনসিসির মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জে আমরা পশু জবাইয়ের জন্য ১৮৩টি স্থান নির্ধারণ করেছি। এসব স্থানে নগরবাসীকে পশু জবাই করতে আমরা উৎসাহিত করছি। তবে বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। সেজন্য এ ধারায় অভ্যস্থ হতে নগরবাসীর আরও সময় লাগবে। এছাড়া পানির ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা লাগবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছে ১৫টি। এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ২ লাখ ৭৫ হাজার। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসছে ২৩টি।

এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ১৬ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসছে ১০টি। এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ২ লাখ ৩২ হাজার। এবার এ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে ৫৪৩টি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসছে দুটি। এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ৩০ হাজার ৭০০টি। আর পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে ২১০টি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাট বসছে ৮টি। এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ১ লাখ ৩৫ হাজার। এবার পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে ৩১৪টি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাট বসছে একটি। এই হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ১২ হাজার। পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৩টি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাট বসছে ৫টি। এসব হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ৯ হাজার।

এই এলাকায় নির্ধারিত স্থান ঠিক করা হয়েছে ১৩৫টি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসছে একটি। এই হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ১৫ হাজার। আর পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে ৩৬টি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাট বসছে ১৪টি। এ হাটে পশু বিক্রি হতে পারে ৯ হাজার। আর পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে ১৯০টি। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে পশুর হাট বসছে ৪টি। পশু বিক্রি হতে পারে ৩১ হাজার ২৩৭টি। আর পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪৩টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *