যানজটে নগরবাসীর দুর্ভোগ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বেলা একটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ জনসভা শুরু হলেও সকাল থেকেই কানায় কানায় ভরে ওঠে উদ্যান এলাকা। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে আসা বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা

মিছিলে মিছিলে সরগরম করে তোলে জনসভাস্থল। এতে রাজধানীর শাহবাগ, রমনা, কাকরাইল, কাঁটাবনসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই এসব এলাকায় মিছিল ও সমাবেশে আসা মানুষের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব এলাকায় চলেনি যাত্রীবাহী বাস। এর প্রভাব পড়ে রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও। ফলে রাজধানীজুড়ে দেখা দেয় তীব্র যানজট। এতে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়ে রাজধানীবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই রাজধানীতে ঢোকার পথগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পাবলিক বাহনগুলো সীমিত থাকায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে সমবেশস্থলে আসতে শুরু করে নেতাকর্মীরা। এতে দুপুরের আগেই সমাবেশ রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ফলে আশপাশের সব রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করে। সমাবেশকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে ছিল বাড়তি সতর্কতা। সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর শাহবাগসহ আশপাশের এলাকার রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। এসব এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের কারণে রাজধানীতে বাস চলাচল সীমিত ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সরকার সমর্থিত পরিবহন মালিকরা যান চলাচল বন্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ অনেকের। আদালতের কাজ সারতে মঙ্গলবার ভোরে সাভারের বলিয়াপুর থেকে রওনা দেন মো. মারুফ। কিছু পথ রিকশায় কিছু পথ হেঁটে শেষে পুরান ঢাকার জজ কোর্টে পৌঁছেন তিনি। তাকে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। কাজ শেষে শাহবাগ পর্যন্ত রিকশায় এবং বাকিটা পথ হেঁটে তিনি গাবতলী পৌঁছেন।

গাড়ি না পেয়ে রাগে গজগজ করতে থাকেন। মারুফ বলেন, ‘সমাবেশের কারণে গাড়ি বন্ধ রেখে কি লাভ? আমাদের মতো মানুষের সব ভোগান্তি।’ গাবতলীর বালুর মাঠের উল্টো পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের সুইং অপারেটর মো. মোজাম্মেল হোসেন। দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙেছে। সকালে পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখাতে সাভারের পলতাসুতি এলাকা থেকে রওনা দেন।

কিছু পথ বাস, কিছু পথ হেঁটে এবং সিএনজিতে বাড়তি ভাড়া দিয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছেন। ভাঙা হাত নিয়ে ফিরতি পথেও তাকে একই সমস্যায় পড়তে হয়। মোজাম্মেল বলেন, ‘কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এ রকম ভোগান্তি হবে জানলে আজ আর বেরই হতাম না। এই ভোগান্তি কি আর ভালো লাগে? সমাবেশ হোক ভালো কথা, গাড়ি বন্ধ করার কি দরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *