নারী ও শিশু খাতে বাজেটের বরাদ্দ লক্ষণীয়

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নারী উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট বাজেটের ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পল্লী ও সমবায় বিভাগের মোট বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে থাকে নারী উন্নয়নে।এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতেও নারীরা সহায়তা পেয়ে থাকেন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নারী উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক লাখ ১২ হাজার ১৯ টাকা, যা মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছিল। সেই হিসাবে নতুন বাজেটে নারী উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখ, বিধবা ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৫ হাজার, মাতৃত্বভোগীর সংখ্যা এক লাখ এবং ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তাপ্রাপ্তের সংখ্যা ৫০ হাজার বাড়ানো হয়েছে।এছাড়াও দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মায়েদের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে এবং ভাতা প্রদানের মেয়াদ দুই বছর থেকে তিন বছরে উন্নীত করা হয়েছে।

 

২০১৪-১৫ সালের বাজেটে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এক হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা ছিল ওই বছরের মোট বাজেটের দশমিক ৬৩ শতাংশ।২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৪-১৫ সালে এই খাতে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছিল ১৫৫ কোটি টাকা।

গ্রামীণ জনপদের নারী ও সুবিধাবঞ্চিত উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ পেতে পারে, সে লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তায় ‘চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ গঠন ও বাস্তবায়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ১০০ কোটি টাকার প্রতীকী বরাদ্দ রাখা হয়।বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “জেন্ডার বৈষম্য হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে আছে। বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্তির বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমশ উন্নতি লাভ করছে ।”

দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৪৭, যেখানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১০৮, ১০৯, ১১১, ১২৪ ও ১৪৩।২০১০ সালে এ সূচকে ১৩৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮২তম।

বিগত এক দশকে নারী শিক্ষার হার অনেক বাড়লেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এখনও যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সাক্ষরতার হার ২০০৯ সালে ছিল ৫৪.৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা ৬৯.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ২০১০ সালের পরে তেমন বাড়েনি বলে জানান তিনি।মুহিত বলেন, “২০১০ সালের ৩৬ শতাংশের তুলনায় সাত বছরে বেড়েছে মাত্র ০.৩ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পেলেও শহরাঞ্চলে অংশগ্রহণের হার কিছুটা কমেছে।”

গণপরিবহনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে আসন সংরক্ষণ ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করতে এক বছর সময় দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রশিক্ষণ এবং আবাসন, সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র, নারীবান্ধব গণপরিবহন ইত্যাদি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর উৎপাদন সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচনকালীন নারীবান্ধব পরিবেশ এবং নারীদের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ে নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে দরিদ্র নারী কৃষিশ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষিকাজে নারীদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে নারী জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা, নারীদের জন্য পাবলিক টয়লেট স্থাপন, পুকুর খনন ও পুনঃখননে নারী কর্মীদের সুযোগ দান, প্রতিবন্ধী মেয়েশিশুদের সহজে ব্যবহার উপযোগী স্যানিটেশন সুবিধার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *