বর্তমান সরকার বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে

এক সময় বাংলাদেশ জর্জরিত ছিল নানা রকম সমস্যায়। কিন্তু দিন দিন  সব সমস্যা পিছনে হটিয়ে দেশ এগোচ্ছে উন্নতির চরম শিখরে। কয়েক বছর আগেও দেশের প্রধান সমস্যা ছিল জনসংখ্যা। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য দেশে বেকারত্ব সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলা করেছে।

দেশ এক সময় শুধু মাত্র কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। দেশের অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার ছিল কৃষি। বর্তমানে কৃষির পাশাপাশি দেশের শিল্প-বাণিজ্য, পোশাক খাত, পর্যটন শিল্প, সিরামিক শিল্প সহ আরও অনেক শিল্প অবদান রাখছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে। অবদান রেখেছে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণেও।

শিল্পের বিকাশ হলেই দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। নানা সমস্যা ও মূলধন জটিলতার কারণে দেশের এই শিল্পটি পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সরকারের নানা উদ্যোগে আবার আশার আলো দেখছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। দেশে প্রায় ১০ লাখ এসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অবদান রেখেছে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে। গ্রামাঞ্চলের মানুষদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

দেশের বেকার যুব সমাজকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করতে সরকার মালয়েশিয়ার সাথে দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছে এবং দক্ষ করে তুলছে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। এতে করে দেশের রেমিট্যান্সের পাশাপাশি তাদের পরিবারেও ফিরে এসেছে সুদিন।

পুরো বিশ্ব আজ এগিয়ে যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে। ডিজিটাল বাংলদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে অগ্রযাত্রা তাতেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেট সেবাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক যুবক ফ্রিল্যান্সিং করে তাদের ভাগ্য বদল করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এ একটি অনন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নারী পুরুষ উভয়েরইঅবদান রাখা জরুরি। একথা অনুধাবন করেই বর্তমানসরকার দেশের নারীদের শিক্ষা ও ব্যবসা খাতে গুরুত্ব প্রদান করেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তাদের নানা রকম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

গত ৫ বছরে দেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর দেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ১৪শ’ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে বড় বড় অবকাঠামো সৃষ্টির প্রকল্প রয়েছে। ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কাজ শেষ হলে কেবল এসব অঞ্চলেই ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও অবসরের পর পেনশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমাদের বর্তমান অবস্থান ৪৩তম। বিশ্বে এখন বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ‘রূপকল্প-২১’ ও ‘রূপকল্প -৪১’ বাস্তবায়নের জন্য বেকারত্ব দূরীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকার এক সময় দেশকে কলংকিত করেছিল। কিন্তু দেশ আজ এই অভিশাপ থেকে মুক্ত। দেশ আজ প্রায় বেকারমুক্ত। সরকার নানা রকম প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বেকারমুক্ত সমাজ তথা একটি দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *