বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে হয়েছে অসামান্য অগ্রগতি

বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি বিশ্বের যেকোন দেশের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সব কিছুই নির্ভর করে বিদ্যুতের যথাযথ উৎপাদন ও সঠিক যোগানের উপর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে নি। বিশেষ করে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় এর চলমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধাবিত করতে বিদ্যুতের টেকসই ব্যবহার গুরুত্ব লাভ করেছে। তাই বর্তমান সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই যোগান সহ এর যাবতীয় উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে বিদ্যুতের টেকসই উৎপাদন, যোগান ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কোন বিকল্প নেই। কারণ শিল্প, কল-কারখানার যাবতীয় কর্মকাণ্ড সবই হচ্ছে বিদ্যুতের সাহায্যে। তাই প্রতিটি দেশই চেষ্টা করে তাদের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর ব্যবহার বাড়াতে। যদিও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ এর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে বিশ্বের অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনও মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। কিন্তু এই অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় নতুন নতুন কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্রমাগত বেড়ে বর্তমানে ১৬,০৪৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সরকারের নিত্য-নতুন পলিসি গ্রহণের কারণে এ খাতে বৈদেশিক ও বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ছে, বাড়ছে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কিলোওয়াট/ ঘণ্টায়, এ হার ক্রমাগত বেড়েই চলছে। এর ফলে নিশ্চিত হচ্ছে বিদ্যুতের টেকসই উৎপাদন ও যোগান।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে এযাবত কালের সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ ১১,৬২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সর্বোচ্চ ১১,৫৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।উন্নয়নের এ ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যেই  ৩৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশেরবিদ্যুৎওজ্বালানিখাতেকাজকরতেআগ্রহপ্রকাশকরেছেবেলজিয়ামেরকোম্পানিগুলো।বিদ্যুৎ, জ্বালানিওখনিজসম্পদপ্রতিমন্ত্রীনসরুলহামিদেরসঙ্গেসৌজন্যসাক্ষাৎকালেএআগ্রহপ্রকাশকরেনবাংলাদেশেনিযুক্তবেলজিয়ামেররাষ্ট্রদূতজনলুইক্স।

২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দফতরে সাক্ষাতে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক উন্নয়নে সরকারের ভুয়সী প্রশংসা করেন জন লুইক্স। এ সময় দু’দেশের পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন তারা। একই সঙ্গে এলএনজি, সঞ্চালন, বিতরণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা করা হয়।লুইক্স বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেলজিয়ামের কোম্পানিগুলো কাজ করতে আগ্রহী। পারস্পারিক সহোযোগিতার মাধ্যমে এগুলো উভয় দেশ উপকৃত হবে।

এ সময় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা ও অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এ খাতে বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।তিনি বলেন, চীন এ পর্যন্ত এ খাতে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। জাপান ইকোনোমিক জোন করে শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মহেশখালিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। পায়রাতেও ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সম্ভাবনাময় বিনিয়োগকারিদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *