সরকারের রেল খাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নচিত্র

রেলওয়ে খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। বর্তমান সরকারের সময়ে নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। সবকয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলখাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশে রেলওয়ে বর্তমান পরিবহণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরাতন রেললাইন পুনর্বাসন, মিটারগেজ লাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর, লোকোমোটিভ, যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন সংগ্রহ ও পুনর্বাসন, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নুতন ট্রেন সার্ভিস চালুসহ বেশকিছু সাফল্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে অধিকতর জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলেছে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনসহ ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়েতে এখন প্রতিদিন ৮৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ১২৬টি লোকাল ট্রেন, ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন এবং ৪টি আন্তঃদেশীয় ট্রেনসহ সর্বমোট ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৭শ’টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ই-টিকেটিং এবং অনলাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয় সহজ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮৪ হাজার ৮৯২ কোট ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭৫ টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ৯০ হাজার ৯১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩ টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৯৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মান এবং ১১২৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়া অনেকগুলো নতুন রেলপথের সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে।

২০ বছর মেয়াদী (২০১০-২০৩০) রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যানে ২৩৩৯.৪৪ বিলিয়ন টাকা (ইউএস ডলার ৩০.০০ বিলিয়ন) ব্যয়ে মোট ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এডিবি’র অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান মাস্টার প্ল্যানটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতা উত্তরকালে দীর্ঘদিন রেলওয়ে সেক্টর অবহেলিত ছিল। অথচ বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে গণপরিবহণ হিসেবে রেলওয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব হওয়ায় জনবহুল এদেশে রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিক এবং এ লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গৃহীত চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপকার ভোগ করবে জনবহুল এদেশের রেলওয়ে গণপরিবহনের যাত্রী তথা আপামর জনসাধারণ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *