সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং নারী,ড.শবনম জাহান

সভ্যতা বলতে বুঝি আমাদের কামনা-বাসনা প্রয়োজন সাধনের লক্ষে উদ্ভাবিত অনেক উপকরণ ও উপায়ের সমন্বয়।কিন্তু সংস্কৃতি হচ্ছে ওইসব উপকরণকে শিল্পিত,রুচিসম্মত,সৌন্দর্য খচিত করে তোলার সংস্কৃতির অঙ্গ।সংস্কৃতিতে মানুষের মূল্যবোধগুলো সুরক্ষিত থাকে তাই মূল্যবোধের অবক্ষয় ও মৌলিক মানবতার গুনাবলির চর্চা ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় নারী।একটি উদাহরণ দেখা যায়,শিশুর সঙ্গে জননীর সম্পর্ক প্রাকৃতিক শিশুর প্রাণ সুরক্ষার একটি পর্যায় পর্যন্ত সে নারীর হেফাজতে থাকে,পরে শিশুটির বড় হতে হতে পিতার,সমাজের বা বিশ্বের হয়ে যায়।একটি শিশু নারীকে ‘মা’ হিসেবে বুঝে নেয় তাকে ব্যক্তি হিসেবে বুঝে না।নারী ও মা হিসেবে মাতৃত্বের ছেঁক বন্ধ হয়ে থাকে।’মাতৃত্ব’ নামক মানবিক দিকটি সংস্কৃতির মধ্যে তৈরি করে প্রথার মডেল যা ভেঙ্গে নারীর পক্ষে বেরিয়ে আসা কঠিন।

ধনতান্ত্রিক অথর্নীতি নারীর কাজ পেতে সুবিধা হলেও শোষনের যে পদ্ধতি তাতে সে শোষিত শ্রেণিতে পর্যবসিত হয়।যেমন:ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় শিক্ষিত নারী প্রবেশ করতে পারলেও তারা এতে অনেক সময়ই পন্যদ্রব্য – শোপিস হিসেবে পরিগণিত হয়।

নারীর লড়াইয়ের প্রশ্ন এড়াতে বঙ্গীয় নারীর সাংস্কৃতিক জগৎ নিমির্ত হতে পারে না।তাই বলা যেতে পারে,নারীর সচেতনতাই তার মুক্তি।মা হিসেবে,কন্যা হিসেবে বা বধূ হিসেবে নারীর যে নানা রুপী জীবন তাতে হৃদয় নৈতিকতার চর্চা,নৈতিকতা নিয়েই নারীর সত্ত্বা বিবেচিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *