লাইভে এসে জানাতে হয়, ‘আমি মরি নাই’

 

এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর তো প্রায় প্রায়ই রটে। এ নিয়ে তিনি কখনো আক্ষেপ করেন। কখনো হাঁসেন। কিন্তু কি করার! গত বছর বেসরকারী এক টেলিভিশনের মাধ্যমে রটে যায়, এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই। সেখান থেকে সারাদেশে তুলকালাম হয়ে যায়। এটিএম শামসুজ্জামানের রেকর্ড পরিমান মৃত্যুর খবর বের হয়েছে। ওমর সানী অসুস্থ হয়েছিলেন কিছুদিন আগে। হার্টে রিং পরানো হয়। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। অথচ এর আগে কয়েকটি মিডিয়া ও সোশ্যাল সাইটে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন সানীর পুত্র ফারদিন এহসান। ফেসবুক লাইভে এসে এমন ‘ফেইক নিউজ’ ছড়ানোর জন্য হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। আমজাদ হোসেন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর তার মৃত্যুর আগেও রটে তিনি মারা গেছেন। ছেলেরা লাইভে এসে কিংবা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আমার বাবা মরে নাই। এইতো এ সপ্তাহেই বলিউডের কাদের খানের মৃত্যুর আগেই রটে, তিনি মারা গেছেন। মিঠুন চক্রবর্তী অসুস্থ, কয়েকদিন আগে রটে তিনি মারা গেছেন। অবশ্য তা মিথ্যে প্রমানিত হয়।

তারকাদের ক্ষেত্রে এমনটা প্রায় প্রায়ই ঘটে। একটু অসুস্থ হলেই রটে যায় তিনি মারা গেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে পরিবার। অনেক সময় তো সেই তারকার নিজের গণমাধ্যমে কথা বলতে হয়, তিনি মারা যান নি। প্রশ্ন হলো, আমরা কবে আরও সতর্ক হবো? গণমাধ্যম আর  স্যোশাল মিডিয়ার যুগে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় প্রিয় তারকাকে হারানোর খবর।

হঠাৎ করেই গতকাল বুধবার রাতে নন্দিত নির্মাতা কাজী হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি গুজব বলেই প্রমাণ হয়। গুজবে আক্রান্ত জাতির সামনে নির্মাতা কাজী হায়াত নিজে ফেসবুক লাইভে এসে তার বেঁচে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলো।

তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে আছি। অসুস্থ, কিন্তু বেঁচে আছি। যারা মিথ্যে কথাটা ছড়িয়েছে তাদের আমি নিন্দা করি। কেনো এই মিথ্যে কথা? আমি খুব কষ্ট পেলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেনো ভালো হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারি। আপনাদের মাঝে ফিরে যেতে পারি।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই নির্মাতার ঘাড়ের একটি রক্তনালি ব্লক হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি নিউইয়র্কে গেছেন গত ২২ ডিসেম্বর। সেখানেই একটি হাসপাতালে চলছে তার চিকিৎসা। কাজী হায়াতের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ও তার ছেলে চিত্রনায়ক কাজী মারুফ।

তড়িৎ গতিতে সংবাদ মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া কিংবা ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস, অনেক সময় যে প্রিয় মানুষটার বেদনার কারণ হয়! আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করি, কবে বন্ধ হবে এমনটা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *