তামিম তাণ্ডবে রানের পাহাড় কুমিল্লার

ফাইনালের জন্য যেন সেরাটা তুলে রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানের ফোয়ারা ছোটালেন তিনি। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে সাকিব-রাসেল-রুবেলদের করলেন কচুকাটা। তাদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে তুলে নিলেন ঝড়ো সেঞ্চুরি। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি গড়লেন ড্যাশিং ওপেনার। তার টর্নেডো ইনিংসে রানের পাহাড় গড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ঢাকা ডায়নামাইাটসকে ২০০ রানের টার্গেট দিল ইমরুল বাহিনী।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের মেগা ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। তবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা শুভ করতে পারেনি ইমরুলরা। সূচনালগ্নেই টুর্নামেন্টজুড়ে বল হাতে আগুন ঝরানো রুবেল হোসেনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইনফর্ম এভিন লুইস।

পরে আনামুল হককে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন। ক্রিজে সেট হয়ে রীতিমতো তোপ দাগাতে শুরু করেন তারা। তবে হঠাৎই পথচ্যুত হন এনামুল। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে ২ চারে ২৪ রান করেন তিনি। এর রেশ না কাটতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন ফর্মে থাকা শামসুর রহমান।

তবে একপ্রান্তে তামিম শো চলেছেই। একের পর এক চার-ছক্কায় সাকিবদের চোখের পানি, নাকের জল এক করে ছাড়েন তিনি। মাত্র ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। এরপর আরো রূদ্রমূর্তি ধারণ করেন। হয়ে ওঠেন আরো বিধ্বংসী। পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ১৯ বলে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েও থামেননি, টর্নেডো চলেছেই। তার সাইক্লোনে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা। তার ব্যাট থেকেই আসে দলের ৭০.৮% রান!

৬১ বলে ১৪১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তামিম। ১০ চারের বিপরীতে ১১ ছক্কায় এ হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি। এটি বিপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি। আর চলতি আসরে ষষ্ঠ। সবমিলিয়ে এটি বিপিএলের ১৮তম। এটি বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের স্কোর। এর আগে আছেন শুধু ক্রিস গেইল। গেল আসরে ১৪৬ রান করেন এ ক্যারিবীয় দানব। তার বিস্ফোরক ইনিংসে ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে রংপুর রাইডার্স।

বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল ঢাকা। গেল পাঁচ আসরে তিনবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজধানীর দলটি। চতুর্থবার শিরোপা ঘরে তোলার আশায় তারা। অন্যদিকে একবার মুকুট পরেছে কুমিল্লা। দ্বিতীয়বার ট্রফি ক্যাবিনেটে ভরার লক্ষ্য তাদের। ফলে এতে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তা বলা বাহুল্য। আগুনগরম ম্যাচটি ঘিরে দেশের ক্রিকেটপ্রেমিদের মধ্যে বিরাজ করছে ভীষণ রোমাঞ্চ ও তুমুল উত্তেজনা।

ফাইনালি লড়াই উপভোগ করছেন আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর ও তার সফরসঙ্গীরা। তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আছেন তারা। সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এরপর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করবেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *