দাবি না মানলে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ: সাকিব

বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় দল, ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স দলসহ ঘরোয়া লেভেলে সব ধরনের ক্রিকেটে ধর্মঘট ডেকেছে ক্রিকেটাররা। তবে বয়স ভিত্তিক দলগুলো থাকছে এর আওতার বাইরে।

সোমবার মিরপুরের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ক্রিকেটারদের পক্ষে সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সাকিব বলেন, অনূর্ধ্ব ১৯ দল বাদে সবাই এটার মধ্যে রয়েছে। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে অনূর্ধ্ব ১৭, ১৫ এগুলো বাদে প্রথম শ্রেণী, জাতীয় দলের প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ সব ধরনের ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বোর্ড সমাধানের দাবিগুলো মেনে নিলেই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবো উল্লেখ করে সাকিব বলেন, আমরা সবাই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। একটা খেলোয়াড় তিন বছর চার বছর খেলবে। অনেকেই ১০ বছর খেলবে। যারা ভবিষ্যতে আসবে, তাদের জন্য আমরা চাই একটি সুন্দর পরিবেশ রেখে যেতে চাই। যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) শুরু হবার আগে ক্রিকেটাররা ভেবেছিলেন বাড়ানো হবে ম্যাচ ফি। যদিও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছিল তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে নেই ফ্রাঞ্চাইজি। তাই হতাশ ক্রিকেটাররা। এই কারণে সোমবার সংবাদ সম্মীলনে যোগ দেন তারা।

এসময় তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, তাসকিন রহমান, এনামুল হক বিজয়, নাঈম ইসলাম, নুরুল হাসান সোহানসহ ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে ক্রিকেটারদের আর্থিক সংকট নিয়ে কথা বলেছেন দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম সাকিব।

এদিন বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক ঘরোয়া ক্রিকেটের গুণগত মান পরিবর্তনের দাবি জানান।

‘আমাদেরে ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগের মানটা আমরা সবাই জানি। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রায় এসেছে আমাদের ক্রিকেটার মানটা আসলে কোন জায়গায়। ম্যাচে যাওয়ার আগেই জেনে যাই কোন দল জিতবে বা হারবে। এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। এই জিনিসটা পরিবর্তন করা জরুরি বলে আমরা মনি করি। একটা খোলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের অনেক বিষয় থাকে এখানে। একটা ভালো খোলোয়াড় ভালো বলে আউট হতেই পারে। কিন্তু দুটি বা তিনটি ম্যাচে বাজে সিদ্ধান্তে যদি আউট হয়। তারপরে ভালো বলে আউট হলে তার ক্যারিয়ারটা ওখানেই শেষ হয়ে যায়।’

নারী দলকে এই আন্দেলনের সঙ্গে আপাতত যুক্ত না করলেও তাদের সমস্যার সমধানে কাজ করা হবে বলে জানান সাকিব।

‘আমরা নারী দলকে এখানে নিয়ে আসতে পারিনি। আমার মনে হয় তাদেরও কিছু দাবি রয়েছে। যদি কিছু থাকে তাদেরগুলোও আমরা তুলে ধরবো।’

আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে অনূর্ধ্ব ১৯ দল বিশ্বকাপ আর তাই যুবাদের এই আন্দোলনে যুক্ত কর হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সাকিব বলেন, যেহেতু অনূর্ধ্ব ১৯ দল বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তাই তাদেরকে এখানে আনা হয়নি। বাকি সবাইকে আমাদের সঙ্গে নিয়েছি। জানি তারা আমাদের পাশে রয়েছেন। যতদিন এই দাবিগুলো পূরণ না হবে ততদিন ক্রিকেট
সংশ্লিষ্ট কোনও কার্যক্রমে জড়িত থাকছি না।

এসময় তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, তাসকিন রহমান, এনামুল হক বিজয়, নাঈম ইসলাম, নুরুল হাসান সোহানসহ জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *