এআইয়ের হাতেই হুমকি, এআইয়েই সমাধান: কাসপারস্কির বিশ্লেষণ
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতায় এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এপিএসি) আর শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং এখন কার্যত গতিপথ নির্ধারণ করছে এই অঞ্চল। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের ৭৮ শতাংশ পেশাজীবী অন্তত সপ্তাহে একবার এআই ব্যবহার করেন, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৭২ শতাংশ। প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তা সমাজ, উচ্চমাত্রার ডিভাইস ব্যবহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠীর এই ‘বটম-আপ’ গ্রহণ এআই ব্যবহারের গতি বাড়াচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, সিইও-নেতৃত্বাধীন কৌশল এবং দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল বাজার। ফলে এপ্যাক এখন বিশ্বে এআই পরীক্ষার সবচেয়ে সক্রিয় ও গতিশীল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই এআই ব্যবহার করে ডিপফেইক আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে, ফলে আসল ও ভুয়া কনটেন্ট চেনা কঠিন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে এআই সাইবার অপরাধীদের পুরো আক্রমণ প্রক্রিয়ায় আরও শক্তিশালী করবে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তবে ভালো দিক হলো, এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় ও সিদ্ধান্তভিত্তিক সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি) সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আরও দ্রুত, স্মার্ট ও কার্যকর করে তুলবে।
ক্যাসপারস্কির রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানভ বলেন, “এআই সাইবার নিরাপত্তাকে দুই দিক থেকেই নতুনভাবে গড়ে তুলছে। আক্রমণকারীরা এআই ব্যবহার করে হামলা স্বয়ংক্রিয় করছে, দুর্বলতা খুঁজে বের করছে এবং খুব বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করছে। আবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একই এআই ব্যবহার করছেন সিস্টেম স্ক্যান, হুমকি শনাক্ত এবং দ্রুত ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে। এআই একদিকে যেমন আক্রমণের হাতিয়ার, অন্যদিকে প্রতিরক্ষারও শক্তিশালী অস্ত্র। এটি নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তার দিক নির্ধারণ করবে বলে আমরা মন করি।”
এ বিষয়ে ক্যাসপারস্কির এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, “এআই গ্রহণের ক্ষেত্রে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই অঞ্চলের ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে। এতে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি সাইবার হুমকির ধরন ও বিস্তারও নতুনভাবে রূপ নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাসপারস্কির ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখতে পারে, যা তাদের সাইবার প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।”
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ক্যাসপারস্কি সাইবার বুলেটিন দেখুন।
এআই-নির্ভর ডিজিটাল রূপান্তরকে নিরাপদ রাখতে এপিএসি অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্যাসপারস্কি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিতভাবে সিস্টেম আপডেট রাখা, পাবলিক রিমোট ডেস্কটপ প্রোটোকল (আরডিপি) অ্যাকসেস সীমিত করা এবং সম্পূর্ণ হুমকি শনাক্তের জন্য ক্যাসপারস্কি নেক্সট ব্যবহার করা। পাশাপাশি হামলাকারীদের পরিবর্তিত কৌশল সম্পর্কে আপডেট থাকতে থ্রেট ইন্টেলিজেন্স কাজে লাগানো এবং কোনো সাইবার ঘটনার সময় দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য আলাদা ও সহজে ব্যবহারের উপযোগী ব্যাকআপ সংরক্ষণ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।