ইরানজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা—চিকিৎসা দিতে হিমশিম
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
ইরানে চলমান বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। দেশটির হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের।
দেশটির তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি জানায়, সংঘাত-সহিংসতায় আহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়েছে হাসপাতালগুলো। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে গুলি লেগেছে।’ তেহরানের আরেক হাসপাতালের কর্মীরা জানান, শরীরে গুলি এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা।
এদিকে, ইরানে সহিংস বিক্ষোভ দমনের জবাব সামরিক কায়দায় দেওয়া হবে বলে শুক্রবার আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের অভিযোগের জবাবে মাকির্ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ''ইরান এখন ‘স্বাধীনতা’ চায়, হয়ত অন্য কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।''
২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর এবারের আন্দোলনকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা সব প্রদেশে এবং একশ’র বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংস রূপ নেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনীর হামলায় এরইমধ্যে কয়েকশ, বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। বহু মানুষ আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত ও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ সদস্য এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।
বিবিসি পারসিয়ান নিশ্চিত করেছে, রাশত্ শহরের পুরসিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাতে ৭০ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে এত মরদেহ রাখার জায়গা ছিল না, ফলে অনেকের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।