শাহবাজের অনুরোধে লংমার্চ স্থগিত করল জামায়াত
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী (জেআই)।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে ফোন করে লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ জানানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
জামায়াতের আমির মুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে সোমবার রাতে ফোন করে লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানান। এরপর দলের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবাদ থেকে পিছিয়ে যাব না। লংমার্চ থেকেও পিছিয়ে যাব না। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। তাই আমরা সরকারকে একটি সুযোগ দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করব, তিনি কী বলেন তা শুনব এবং আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরব।
জামায়াত আমির আরও বলেন, বৈঠকের দিন প্রধানমন্ত্রী যদি পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন, তাহলে বিষয়টি সমাধান হবে। অন্যথায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে একই শক্তিতে লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে জানান হাফিজ নাঈমুর রহমান। এ সময় বিক্ষোভ ক্যাম্প ও অবস্থান কর্মসূচিও চলবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য দুই নেতা বৈঠক করবেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জামায়াত আমির বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এবং ‘অন্যায্য’ পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলছে। গত ৭ আগস্ট থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং ৪২টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত।
পেট্রোলিয়াম লেভি কমানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে সরকার জামায়াতের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। এটি পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষের সমস্যা। তার দাবি, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী ফুয়েল রিলিফ স্কিমেরও সমালোচনা করেন তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় দুই ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত আমিরের দাবি, সরকার এক মাসের জন্য ২৫ বিলিয়ন রুপি ত্রাণের ঘোষণা দিলেও প্রতি মাসে জ্বালানির দামের সঙ্গে ১৫০ বিলিয়ন রুপি লেভি আদায় করছে।এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী মার্চ প্রসঙ্গে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা দলটির সাংবিধানিক অধিকার।