ট্রাম্প হেরে গেলে রণক্ষেত্র হবে যুক্তরাষ্ট্

কে হচ্ছেন ৪৬তম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট? এই প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে জনমনে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডনেও শেষ মুহুর্তে প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ভোটে এবং ইলেক্টরালে যদি বাইডেন এগিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা তা নিয়ে চলেছে জল্পনা-কল্পনা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন মাকির্নিরা। মূলত নির্বাচনের ফল এবং নির্বাচন পরবর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডা, শিকাগো, ওহাইও,ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসিসহসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এ অবস্থায় এক অনিশ্চয়তার দিকে এগুচ্ছো যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ভোট টানতে ট্রাম্পের সশস্ত্র উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘প্রাউড বয়েজ’ ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। গোলমাল করতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাইডেনের সমর্থকরাও।

সাদা হোয়াইট হাউজ দখলের লড়াইয়ে দু’পক্ষের সমর্থকরা ইতিমধ্যে গতকাল রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের দেয়ালে দেয়ালে বিভিন্ন পোস্টার ছেপে দিয়েছেন অনেকে। এখন দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাতের আশঙ্কায় ম্যাসাচুসেটস রাজ্য ন্যাশনাল গার্ডের ১ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে প্রশাসন। শুধু ম্যাসাচুসেটস নয় যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর রাজগুলোতে বিপুল নিরাপত্তা সদস্য বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন, ডিসির বরুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাঙ্কের সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল বাইম্যান সর্তকবার্তা দিয়ে বলছেন, আমরা জানি না কি হতে যাচ্ছে এই নির্বাচনে। যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। বিপদের আভাস পাচ্ছি’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই মনে করছেন, নির্বাচনের পর বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়বে যা সংঘর্ষেও রূপ নিতে পারে। আর প্রতি চারজনের মধ্যে একজন বেশ আস্থার সাথেই বলেছেন, নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। তারা বলছেন, ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন।

কিন্তু আসলেই কি ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়বেন? নির্বাচনে হেরে গেলে সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা, এ বিষয়ে উত্তর দিতে অস্বীকার করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কয়েকবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বলেছেন যে, তিনি নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষমতা ছাড়বেন না। এরপর থেকেই সন্দেহ সৃষ্টি হয় হোয়াইট হাউজ ছাড়ার বিষয়ে।

তবে, রিপাবলিকান প্রার্থী বাইডেন কিন্তু বলেছেন, ক্ষমতা না ছাড়লে সেনাবাহিনী তাকে সরিয়ে দিবেন। যদিও সংবিধান তাই বলছে। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ট্রাম্প আগেভাগে নিজেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে পারেন। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে ঠেলে দিবে।

এদিকে, ইউএস টুডে এবং সাফোক ইউনিভারসিটি যৌথভাবে এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। তাতে দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্রের এক-চতুর্থাংশ ভোটার হিংসার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়েছে- চূড়ান্ত বিজয়ীকে নির্বাচন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কেউ কেউ সামরিক ক্যু’র আশংকা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেনের কাছে যদি সামান্য ব্যবধানে হেরে যান তবে ফলাফল প্রত্যাখান করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সব কিছু জানতে নির্বাচনের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে।

পাঠকের মন্তব্য