সিদ্ধিরগঞ্জে ছয় ভবন হেলে পড়েছে: বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনে ‘উচ্চ ঝুঁকি’ ঘোষণা
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একাধিক আবাসিক ভবন হেলে পড়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজউক, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে মোট ছয়টি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছেন। ভবনগুলোর সামনের অংশে ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক লালচিহ্নযুক্ত সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং ও ভূমিপল্লী এলাকাজুড়ে বেশ কয়েকটি ভবন ভূমিকম্পের কম্পনে পাশের দিকে কাত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি ভবন সরাসরি হেলে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে ছয়টি ভবনই এখন ব্যবহার অনুপযুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শন দলের অন্যতম প্রধান ছিলেন আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী এ টি এম তানভীরুল হাসান তমাল। ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি বলেন,
“আমরা ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ভবন ঘুরে দেখেছি। প্রতিটি ভবনের সমস্যার ধরন প্রায় একই—সয়েল সেটেলমেন্ট হয়েছে, যার কারণে ভবনগুলো টিল্টিং বা হেলে পড়েছে। ভবনের মূল স্ট্রাকচারে বড় ধরনের ফাটল পাওয়া যায়নি। তবে ফাউন্ডেশন দুর্বল ছিল। নির্মাণের সময় যথেষ্ট গভীর পাইলিং হয়নি—এটাই মূল কারণ।”
তিনি জানান, ভবনগুলোর বিস্তারিত মাপজোক নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন রাজউকে পাঠানো হবে। তিনি এটিকে একটি গুরুতর নির্মাণ-ত্রুটি ও ভূমি প্রস্তুতি ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজউকের নারায়ণগঞ্জ জোন–৮-এর অথোরাইজড অফিসার প্রকৌশলী রংগন মণ্ডল বলেন, “তিনটি ভবন সরাসরি হেলে পড়েছে এবং সেগুলোর চাপ পাশের তিনটি ভবনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মোট ছয়টি ভবনই এখন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এগুলো আপাতত নিরাপদ নয়। বুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ভবনগুলোতে প্রবেশ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ।”
তিনি আরও জানান, অনেক বাসিন্দা ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় ভবন খালি করতে শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
“ভবনগুলো পুরোপুরি খালি হওয়ার পর আমরা পুনরায় পরীক্ষা করব। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করা হবে,” বলেন তিনি।
ভবন হেলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ দেখি ভবনটা পাশের দিকে ঝুঁকে গেছে। ভূমিকম্প থেমে গেলেও ভয় কাটছে না।”