বিটিআরসি ভবনে হামলা, আটক ২৬
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ১ জানুয়ারী, ২০২৬
মোবাইল ফোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন মো. সাব্বির ২৪, মো. শাহিন (২৬), মো. রিফাত (১৯), মো. মঈন (২২), মো. অনিক (২৭), মো. তারেক (২৪), মো. রিফাত (২৩), মো. হানিফ (২৫), মো. রাব্বি (৩২), মো. সোহানুল (২৪), দীপক হাজরা (২৬), তারেক আজিজ (২৫), মো. সাজ্জাদ (১৯), মো. শিপন (২৩), মো. সিয়াম (২৩), মো. ওনেস ইমরান (২৪), মো. মনির (২৫), মো. হারিস (২৭), মো. মতিউর (৪৮), মো. সাব্বির (২২), রাজন শেখ (৩১), আবু সাদিক (২৯), মো. মামুন (২৪), মজিবর (৩২), মো. সালাউদ্দিন (৩৯), মো. রাকিব (২৩), আমিনুল ইসলাম (২৪) ও আ. সবুজ (৩০)।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, মোবাইল ব্যবসায়ীরা হঠাৎ হামলা চালান। বিটিআরসি ভবনের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মোহাম্মদপুরের শেরেবাংলা আর্মি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের শেরেবাংলানগর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিন সন্ধ্যায় ৬টার দিকে দেখা যায়, বিটিআরসি ভবনের করিডোরের গ্লাস ভাঙা। ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় ভবনের পাশের গলিতে রাখা বিআরটিসির একটি বাসও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিটিআরসি ভবনে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন আনসার সদস্য বলেন, দুপুর ২টা থেকে আন্দোলন করছিলেন মোবাইলফোন ব্যবসায়ীরা। পরে বিকেল ৩টার পর তারা ভাঙচুর চালান।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত এনইআইআর বাস্তবায়ন হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালান। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে এই ভাঙচুর চালানো হয়। তবে এ হামলায় বিটিআরসির কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেয়ার সময়সীমা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা।
সরকারের অভিযোগ, একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশে এনে বাজারজাত করছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধভাবে দেশে আসা ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হবে। তবে এনইআইআর চালুর আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কোনো ফোন বন্ধ করা হবে না।