বিটিআরসি ভবনে হামলা, আটক ৪৬
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ১ জানুয়ারী, ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তি ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে একদল বিক্ষোভকারী এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই এনইআইআর চালুর বিরোধিতা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মোবাইল বিক্রেতা ও ‘ল্যাগেজ পার্টি’ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগারগাঁওয়ে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বিটিআরসি ভবনের প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
হামলাকারীরা ভবনের নিচতলার কাঁচ এবং সামনে থাকা কয়েকটি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আজ ১ জানুয়ারি থেকে নতুন যুক্ত হওয়া সব অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিটিআরসি। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তারা গ্রাহকের কাছে থাকা ‘গ্রে মার্কেট’ বা অবৈধ ফোনের ওয়ারেন্টি ও সার্ভিসিং নিয়ে জটিলতায় পড়বেন। তবে বিটিআরসি আগে থেকেই জানিয়েছিল, বৈধ ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়াতে স্টকে থাকা ফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা গত রাত (৩১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এটি পরিকল্পিত হামলা। একটি শক্তিশালী চোরাচালানি চক্র, যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ফোন বিক্রি করে আসছিল, তারাই এই হামলা উসকে দিয়েছে। কোনো সহিংসতায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল শৃঙ্খলা নিশ্চিতের এই পদক্ষেপ (NEIR) থামানো হবে না।”
ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে আগারগাঁও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”