২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার, বিক্রি হতো অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। আগে কখনও এমন বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জাল নোট চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি জাল মুদ্রা জব্দ করা হয়।
এসময় গ্রেফতার করা হয় তানবিজ উদ্দিন ও আসিফ উদ্দিন নামে দুই যুবককে। তানজিবের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এবং আসিফের চন্দনাইশ উপজেলায়।
তাদের কাছ থেকে ৫৫ বান্ডিল জাল ইউরো, ৪৫ বান্ডিল ডলার, ২১ বান্ডিল দিরহাম, ৪৫ বান্ডিল জাল রিয়ালসহ বাংলাদেশি জাল টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বাংলাদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১ হাজার টাকা, ২০০ টাকা ও ৫০ টাকার জাল নোটের বান্ডিল।
এছাড়া তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল, সাতটি ক্রেডিট কার্ড, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, আন্দকিল্লার অঙ্কুর প্রিন্টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ছাপানো হয় জাল নোট। এরপর চক্রের সদস্যরা অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়।
ওই যুবক বলেন, প্রত্যেকটা নোট আমি দারাজে বিক্রি করি। প্রত্যেকটা কাস্টমার দারাজ থেকে এসব জাল নোট ক্রয় করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, শুটিং এক প্রপস হিসেবে এসব নোট ক্রেতাদের কাছে তারা বিক্রি করতেন।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় র্যাব মামলা করেছে। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা কারা, কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে এত টাকার জাল নোট ছাপাল তা উদঘাটন করবে।
এদিকে বুধবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাল নোট তৈরি, বহন ও লেনদেন করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সন্দেহজনক নোট পেলে বা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য অবগত হলে অবিলম্বে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।