শেয়ার কারসাজি: সিটি ব্যাংককে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড ও অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে দেশের শীর্ষ স্থানীয় বাণিজ্যিক সিটি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সিটি ব্যাংক ছাড়াও শেয়ার কারসাজিতে আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকায় তাদেরও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সিটি ব্যাংক এক দফায় ৪১ লাখ টাকা এবং অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারদর কারসাজির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ১ লাখ টাকাসহ মোট ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।
এছাড়া এমডি সানোয়ার খান ২৫ লাখ টাকা, মোছা. আসমাউল হুসনাকে ৯ লাখ টাকা, আনোয়ার পারভেজ খানকে ১ লাখ টাকা এবং এসএসএস হোল্ডিংস লিমিটেডক ১৭ লাখ টাকা, ফাইন ফুডসের পরিচালক অভিজিৎ দাসকে ৫৮ লাখ টাকা ও এমডি সালাউদ্দিন হায়দারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে সংস্থাটি।
বিএসইসির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গত বুধবার এই আদেশ জারি করা হয়।
জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে ফাইন ফুডস লিমিটেড ও অগ্নি সিস্টেম লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সিটি ব্যাংককে জরিমানা করে বিএসইসি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে সিটি ব্যাংক পিএলসির সম্পৃক্ততা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাই শেয়ার কারসাজির গভীরতা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম শেয়ার কারসাজির ঘটনায় উঠে আসা বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পুঁজিবাজারে ২০২৪ জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গুঞ্জন ছিল ফাইন ফুডস ও অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারদর নিয়ে কারসাজি চলছে। কোম্পানির ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থার উন্নতির কারণে নয়, বরং কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ফাইন ফুডসের শেয়ারদর কারসাজি করে বাড়িয়ে তোলা হয়। পরে সুবিধামতো সময়ে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা হাতিয়ে নেয় কারসাজির সঙ্গে জড়িত চক্রটি।
২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ফাইন ফুডসের শেয়ারদর ছিল ১৫২.৫০ টাকা। ডিসেম্বরের ২২ তারিখে কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়ায় ২২৮ টাকায়। ফলে দুই মাসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫.৫০ টাকা বা ৪৯.৫১ শতাংশ।
ডিএসইর সবশেষ তথ্য অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দর ছিল ৪৩৬ টাকা ১০ পয়সা। চলতি মাসের ২০ দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারের দাম কারসাজি করে বাড়িয়ে তোলার অভিযোগ পায় বিএসইসি। কারসাজি চক্র সুবিধামতো সময়ে ওই শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা হাতিয়ে নেয়।
কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগে এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও ফাইন ফুডস লিমিটেডের চারজন বিনিয়োগকারী ও দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে কারসাজির মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অপরাধ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
জানা গেছে, ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে মোহাম্মদ শামসুল আলমকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে সাজিয়া জেসমিনকে ৪৯ লাখ টাকা, সুলতানা পারভিনকে ১১ লাখ টাকা, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ১ লাখ টাকা। এএএ এগ্রো এন্টারপ্রাইজকে ৭৫ লাখ টাকা এবং আরবিম টেকহো লিমিটেডকে ২৩ লাখ টাকা জারিমানা করা হয়েছে।
ব্যবসায় মন্দা হলেও কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে শেয়ারদর আকাশচুম্বী দেখিয়ে আসছে ফাইন ফুডস। এক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে মুনাফা বেশি ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে আসছে; যা কোম্পানির নিরীক্ষকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অপরদিকে, ১৯৯৫ সাল থেকে অগ্নি সিস্টেমস দেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসছে। কোম্পানিটি ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির প্রধান ব্যবসা হলো-ইলেকট্রনিক মেইল, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস, ইলেকট্রনিক ডেটা কমিউনিকেশন, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট। এছাড়া সব ধরনের কম্পিউটার সফ্টওয়্যার এবং যোগাযোগের জন্য পরামর্শ পরিষেবা প্রদান করে কোম্পানিটি।
অবশেষে তদন্ত সাপেক্ষে কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।