তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা আজ
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। আজ সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। পরে বিকেলে নতুন সরকারের মন্ত্রিরা শপথ নেবেন। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মাধ্যমে ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৮ মাস পর নতুন নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।
সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের (নিচ তলায়) শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাদের পৃথক শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন দলের অবস্থানে ভিন্নতা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। এরপর সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। সে হিসেবে নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে।
দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে মন্ত্রিসভায় তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি দেখভাল করছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, তা আগাম কেউ বলতে পারেননি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, বিএনপির কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, অবদান রেখেছেন, নিশ্চয়ই তারা এই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। আশা করি, যাদের দুর্নীতির বদনাম নেই, যাদের দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা আছে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে কখনও আপস করবে না, তাদের এই মন্ত্রিসভায় রাখা হবে।
শপথ পড়াবেন সিইসি
সংবিধান মতে, সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। কিন্তু এবার বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই। তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের অন্য ধারা বলে, শপথবাক্য পাঠ করাবেন সিইসি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত সংসদ সচিবালয়ের একটি চিঠি পেয়েছে ইসি। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি।
এর আগে সংসদ সচিবালয় থেকে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বার্তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন
জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নেবেন। সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তারও আয়োজন রেখেছে।
তবে সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অনেকগুলো হয়-এর পরে’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ হলে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে (সংবিধান) অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তপশিল ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়— এই এতগুলো হয়-এর পরে তারপরে হলে হতে পারে।’ গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শপথ ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ উপলক্ষে সংসদ ভবন এলাকায় যান চলাচল আজ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে।
গতকাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শপথ গ্রহণসহ সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে দল ও নির্বাচিত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিসভার আকার ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এসব বিষয়ে দলীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শপথের পর সংসদীয় নেতা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো দেশের স্বার্থে কাজ করা। গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নতুন সংসদ এগিয়ে যাবে।
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাড়ি ও ৪৭ চালক প্রস্তুত
অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এ বাড়িগুলো রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুত করার কাজ চলছে। এই ৩৭টি বাড়ির মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বসবাস করা বাড়িগুলোও রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হচ্ছে– জানতে চাইলে আদিলুর রহমান বলেন, ওনারা (বিএনপি) যেভাবে চান, সেভাবে হবে। ওনাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন মন্ত্রীদের গাড়িচালক হিসেবে ৪৭ জনকে চূড়ান্ত করেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। মন্ত্রীদের চালকরা আজ সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থিত হবেন। তবে গাড়ি প্রস্তুত আছে ৫০টি।
মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন যারা
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, অনেক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যু, অনেকে বয়োবৃদ্ধ হয়ে অবসরে চলে যাওয়ায় মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞদের সংকট ভোগাবে বিএনপিকে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ের কথা বলা হলেও সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের ঘাটতি থেকে যাবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে মনোনয়ন দিতে গিয়ে এমন ঘাটতি এসেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাইছেন, অভিজ্ঞ আর গ্রহণযোগ্য পার্লামেন্টারিয়ানকে এই দায়িত্ব দিতে। সেই হিসেবে যারা ছয়বার সংসদ সদস্য হয়েছেন এমন তিন নেতার সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। তবে স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় বসে থেকে সংসদ পরিচালনার মতো শারীরিক অবস্থা তাদের নেই বলে তারাই জানিয়েছেন। এখন যারা পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্র বলছে। সে ক্ষেত্রে যেসব মন্ত্রণালয় তখন বিতর্কের বাইরে ছিল, তাদের কথা আগে ভাবা হচ্ছে।
অভিজ্ঞদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মতো নেতাদের নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। এদের বেশির ভাগকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে বলে স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞদের মধ্যে জয়নুল আবদিন ফারুক, আ ন ম এহছানুল হক মিলনও আছেন।
কৃষিমন্ত্রী হিসেবে এই খাতে কাজের অভিজ্ঞতা আছে এমন একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরিশাল জেলার একজন নেতার নাম বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সাবেক একজন সচিবকে দেখা যেতে পারে।
থাকছেন তরুণরা
মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন মুখের কথা শোনা যাচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের যুক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণ সংসদ সদস্যদের বাইরে টেকনোক্র্যাট কোটায়ও একাধিকজন যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ ক্ষেত্রে যুব ও ক্রীড়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথা শোনা যাচ্ছে।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে যারা এবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, তানভীর আহমেদ রবীন, মীর শাহে আলম, এস এম জিলানী, হাবিবুর রশীদ হাবিব উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্য থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীসহ একাধিকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
দলের নতুন ও তরুণ এমপিদের তালিকায় গাজীপুরের মজিবুর রহমান, কুমিল্লার জাকারিয়া তাহের সুমন, চট্টগ্রামের সাঈদ আল নোমান অন্যতম। তরুণ মুখ হিসেবে তারাও আলোচিত। সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। তিনি মূলত শিক্ষা খাতে কাজ করেন।
থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা
কয়েক বছর আগেই যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তাদের মধ্যে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া, এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর ও গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি আছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ এখন বা পরে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ বিশেষ অতিথিরা অংশ নেবেন
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। বিকেলে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচিসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অতিথিরা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা।
গতকাল সীমা মালহোত্রা ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল্লাহ খলিল ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা। গতরাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরীর ঢাকায় পৌঁছার কথা।
আজ সকালে পৌঁছাবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি। দুপুরে পৌঁছাবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের স্পিকার ও পররাষ্ট্র সচিব।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দেশগুলো হচ্ছে– চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
হেফাজত আমিরকে আমন্ত্রণ তারেক রহমানের
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে টেলিফোনে বাবুনগরীকে এই আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, মঙ্গলবার সকালে নবনির্বিাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের সব রকম ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।