আইন লঙ্ঘন করে ফেসবুকে ‘ম্যাংগো ফ্লেভার’ সিগারেটের প্রচারণা
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
দেশে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন আইনত নিষিদ্ধ হলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমের ফ্লেভারের সিগারেটের বিজ্ঞাপন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ৬ নম্বর ধারা অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের যে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন তামাক কোম্পানি নানা কৌশলে এই বিধান লঙ্ঘন করে প্রচার চালাচ্ছে।
সম্প্রতি ‘ডেলিভারি হবে’ নামের একটি ফেসবুক পেইজে ‘ইজি চেইন্জ ম্যাংগো’ নামে আমের ফ্লেভারের একটি নতুন সিগারেটের প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। এক্ষেত্রে কৌশলী ও বিভ্রান্তিকর উপায় অবলম্বন করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে সিগারেটের প্যাকেটের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে ‘সারা বছর আমের চাহিদা মেটাতে বাজারে এসেছে নতুন ১২ মাসি আম’। এমনকি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে , ‘খেতে পারবেন ম্যাংগো শেক বানিয়েও’। বাংলাদেশে এই সিগারেটের প্রস্তুতকারক হিসেবে প্যাকেটের গায়ে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির নাম লেখা আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের (টিসিআরসি) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা জামান লিজা বলেন, “দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে তামাক কোম্পানিগুলো বেপরোয়াভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। সম্প্রতি ম্যাঙ্গো ফ্লেভারের সিগারেটের নামে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। এ ধরনের প্রচারণা তরুণদের প্রলুব্ধ করছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।“
বিশ্লেষকদের মতে, একটি পুষ্টিকর ফলের সঙ্গে সিগারেটের তুলনা করা বিভ্রান্তিকর। এটি কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করার অপকৌশল হতে পারে। ফলের কৃত্রিম স্বাদ বা ‘ফ্লেভার’ ব্যবহার করে সিগারেট বাজারজাত করা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, “আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও ম্পন্সরশীপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো আইনের প্রতি কোনো ধরনের শ্রদ্ধা না দেখিয়ে নানা কৌশলে তামাকের আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে।“
এদিকে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক কনসার্টে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এ ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্পন্সর ছিল 'রিয়াল ডায়মন্ড'। এটিও আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির সিগারেট ব্র্যান্ড।
এ বিষয়ে সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট আয়োজনের নামে সিগারেট কোম্পানিগুলো আদতে তরুণদের তামাকে আসক্ত করার জন্য কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যেও তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারী তামাক কোম্পানিগুলোকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।