ছক্কা, রানবন্যা আর ব্যাটিংয়ে ভারতের আধিপত্যের বিশ্বকাপa

শেষ হয়েছে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এই বিশ্বকাপ ছিল ব্যাটারদের জন্য স্মরণীয়। সর্বোচ্চ ছক্কা আর সেঞ্চুরির সঙ্গে ছিল ভারতের ব্যাটিংয়ে দাপট।

৭৮০– টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে ৫১৭টি ছক্কা হয়েছিল। এবার তার চেয়ে ৫০.৮৭ শতাংশ বেশি ছয়ের দেখা মিলেছে। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৭৮০ ছক্কা হয়েছে এবার। 

বল প্রতি ছক্কার আনুপাতিক হার ১৫.৫২, সব আসর মিলিয়ে যা  সর্বোচ্চ। ভারতে ৩৫ ম্যাচে ছয় হয়েছে ৬০০টি, শ্রীলঙ্কায় ১৮০টি।

৪– টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে খেলেননি সঞ্জু স্যামসন। তারপরও সুপার এইটের শেষ ম্যাচ, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে আশির বেশি রান করে তিনি হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। আরও চার খেলোয়াড় সবগুলো ম্যাচ না খেলেও আইসিসি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ একটির বেশি ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকেননি।

৬/৭– টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ সংগ্রহের সাতটির মধ্যে ছয়টিই হয়েছে এই আসরে। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা ৬ উইকেটে ২৬০ রান এখনো এই তালিকায় সবার উপরে। ওই ইনিংসের পর প্রতিযোগিতায় ৩৬৩ ম্যাচ খেলা হলেও রেকর্ড অক্ষত রয়েছে। 

১৫– এই বিশ্বকাপে ১৫টি ক্যাচ ড্রপ করেছে ভারত। দশটির বেশি ক্যাচ ফেলেনি আর কোনো দল। ইএসপিএনক্রিকনইফোর বল-বাই-বল ডাটা লগস অনুযায়ী ছেলেদের কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে একটি দলের এটিই সর্বোচ্চ ক্যাচ ফেলার অবাঞ্ছিত কীর্তি। এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ১৪টি ক্যাচ ফেলে আয়ারল্যান্ড।

৩৮৩– সাহিবজাদা ফারহান ৩৮৩ রান করেছেন। এক বিশ্বকাপে কোনো ব্যাটারের এটাই সর্বোচ্চ রান। প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চেুরির কীর্তিও পাকিস্তানি ওপেনারের।

এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের মোট রানের ৩৭.৩ শতাংশই এসেছে ফারহানের ব্যাট থেকে এবং তাদের পাঁচ পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটির সবগুলোতেই ছিলেন তিনি।

৪– এই আসরে চারবার কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ভাঙাগড়া হয়েছে। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ১৭ ছক্কা মেরে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন নিকোলাস পুরান।

এই রেকর্ড তারপর কয়েক হাত ঘুরেছে। শুরুটা হয় ফারহানকে (১৮) দিয়ে, এরপর শিমরন হেটমায়ার (১৯), ফিন অ্যালেনকে (২০) ছাপিয়ে স্যামসন সেরা হয়েছেন। পাঁচ ম্যাচে ২৪ ছক্কা তার।

২০– এই বিশ্বকাপে ২৫টির চেয়ে কম বল খেলে ২০টি ফিফটি হয়েছে। অথচ গত ৯ আসর মিলিয়ে এমন ফিফটি হয়েছিল মাত্র ২৭ বার। ২০২৬ সালে ২০টির কম বল খেলে ফিফটি হয়েছিল ছয়টি।

১– ভারত প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ জিতল তিনবার। এছাড়া প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি ট্রফি ঘরে নিলো তারা। আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম স্বাগতিক দল। 

১৪– এই বিশ্বকাপে ২০০-এর বেশি রান হয়েছে ১৪টি। আগের ৯ আসর মিলিয়ে যেখানে ছিল ১৮টি দুইশ ছাড়ানো ইনিংস।

৭– এই টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি হয়েছে সাতটি। আগের ৯ আসরে কখনো দুটির বেশি সেঞ্চুরি হয়নি। এই আসরেই হয়েছে দুটি দ্রুততম সেঞ্চুরি।

৬– প্রথম দল হিসেবে ভারতের ছয় ব্যাটার ফিফটি প্লাস রান করেছেন: ইশান কিষাণ, সূর্যকুমার যাদব, স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে ও অভিষেক শর্মা।

১০৬– এই বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে ভারত ১০৬ ছক্কা মেরেছে। ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে প্রথম দল হিসেবে একশর বেশি ছক্কা মেরেছে তারা।

৪/১৫– জসপ্রীত বুমরাহ দ্বিতীয় বোলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে চার উইকেট নিলেন। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম চার উইকেটের কীর্তি। ২০১২ সালে অজন্তা মেন্ডিস প্রথম বোলার হিসেবে ফাইনালে চার উইকেট নেন।

৮– গ্রুপ পর্বে ৮ বল খেলেও কোনো রান পাননি অভিষেক। উগান্ডার রজার মুকাসার পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে ডাক মারলেন ভারতীয় ওপেনার।

৬– ভারতের ছয় ব্যাটার এই বিশ্বকাপে দুইশর বেশি রান করেছেন– ইশান, স্যামসন, সূর্যকুমার, তিলক ভার্মা, হার্দিক ও দুবে। যা কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে একটি দলের সর্বোচ্চ। এক আসরে কোনো দল থেকে তিনের বেশি ব্যাটার দুইশ ছাড়ানো স্কোর করতে পারেননি।

পাঠকের মন্তব্য