বিশ্বকাপ খেলতে ইরানি খেলোয়াড়দের নতুন শর্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
এখনও পুরোপুরি সমঝোতায় পৌঁছেনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান। এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয়পক্ষের মাঝে চুক্তি সম্পন্ন না হলে আবারও যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে ঝুলে আছে ইরানের আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টিও। এদিকে, ইরানের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই জানালেও, নতুন শর্তের বিষয় সামনে এসেছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলোয়াড়রা যেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে সঙ্গে নিতে না পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের (ফুটবলার) আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো কথা বলা হয়নি।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–ও হোয়াইট হাউজে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, তার প্রশাসন কোনোভাবেই খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে চায় না। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপের ২৩তম আসর বসবে। যেখানে ইরানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার সময় থেকে আলোচনার টেবিলে। কারণ গ্রুপপর্বে তাদের তিনটি ম্যাচই রাখা হয়েছে মার্কিন ভূমিতে।
এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত পাওলো জামপোল্লির সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা না থাকলেও, তিনি ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলছেন, ‘সমস্যা ইরানের খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়, বরং তারা যাদের সঙ্গে আনতে চাইবে তাদের কিছু লোকের আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। আমরা হয়তো তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দিতে পারব না, তবে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।’
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের মাঝে অন্যতম আলোচিত নাম আইআরজিসি। ইরানের এই বিপ্লবী সামরিক বাহিনীর কাছে বেশ ভালোই নাকানিচুবানি খাচ্ছে দেশ দুটি। ফলে তাদের কেউ যেন ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ না করে সেটাই এখন ভাবনা রুবিও’র, ‘তারা আইআরজিসির সন্ত্রাসীদের একটি দলকে আমাদের দেশে এনে সাংবাদিক বা প্রশিক্ষক সেজে থাকার ভান করতে দিতে পারে না।’ যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণে হাজারও মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যদিও সেটি যেকোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে বলে বারবার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।