সময়সীমা শেষের পথে, ‘যুদ্ধাপরাধ নিয়ে চিন্তা নেই’ বললেন ট্রাম্প

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এসব নিয়ে তাঁর কোনো চিন্তা নেই।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আটটার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) মধ্যে কোনো চুক্তি না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যেটিকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলা হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য যুদ্ধপরাধ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই।’ এ সময় সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা হলো যুদ্ধাপরাধ।’

সুইডেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) গত বছরের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রধারী। বাকিরা হলো- রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। 

এসআইপিআরআই বলছে, গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে আনুমানিক ১২ হাজার ২৪১টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুত ছিল। মোতায়েন করা ৩ হাজার ৯১২টি ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে উচ্চ কার্যক্ষম সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এর প্রায় সবগুলোই রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন। 

সোমবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানকে একরাতের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। ওই রাতটি মঙ্গলবার হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন। হুঁশিয়ারি দেন- তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হয়ে যাবে, সেগুলো আর কখনোই ব্যবহারের উপযোগী থাকবে না।

গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্পের দেওয়া এমন হুমকির জবাবে সোমবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ করার হুমকি দিয়েছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির অনুচ্ছেদ ৮(২)(খ) অনুযায়ী একটি যুদ্ধাপরাধ।

ট্রাম্পের সময়সীমার জবাবে তেহরান জানিয়েছে, তারা কোনো সময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলছে, স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা চিন্তিত। তাদের সন্দেহ এটি গাজা ও লেবাননের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। অর্থ্যাৎ, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকার পরও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন-তখন ইরানের ওপর হামলা করবে।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালায়। এতে ২৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানিদের ট্রেন ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। বার্তাটিকে ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসন্ন হামলার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য