রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কলকাতার তৃতীয় হার নিশ্চিত করলেন মুকুল

প্রায় নিশ্চিত হারের ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে জেতালেন ২১ বছর বয়সী মুকুল চৌধুরী। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জিততে শেষ ৪ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৫৪ রান, হাতে স্রেফ ৩ উইকেট। ওই অবস্থায় দারুণ সব শটে কলকাতার তৃতীয় হার নিশ্চিত করে ম্যাচসেরা মুকুল। শেষ ওভারে তিনি বৈভব অরোরার অনেক বাইরের ডেলিভারিকে দৃষ্টিনন্দন ‘হেলিকপ্টার’ শটে কাভারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে ৩ উইকেটে জয় নিশ্চিত করেন।

আগের তিন ম্যাচের একটিতে কেবল কলকাতা হার এড়িয়েছে বৃষ্টির কল্যাণে। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেনে নেমে গতকাল (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ ম্যাচে প্রথম জয়ের আশা জাগিয়েছিল অবশ্য। তবে আশাভঙ্গ হলো এবারও। ২০১২ সালের পর এবারই প্রথম শুরুর দুই ম্যাচ হারা দলটি লখনৌর বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮১ রান তোলে। সেই রান ডিফেন্ড করার চেষ্টায় বোলাররা প্রায় সফল হতে হতেও শেষের লাগামটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না।

শেষ ওভারে লখনৌর প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। আগের ওভারে ১৬ রান নেওয়া মুকুল অবশ্য তখন ননস্ট্রাইকে। তবে আভেশ খান এক রান নিয়ে তাকে স্ট্রাইক দিতে ভুল করেননি। পরের বল স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করে জয়ের পথ সুগম করেন মুকুল। কিন্তু বৈভব পরের দুটি ইয়র্কার বলে ডট দিয়ে জমিয়ে তোলেন লড়াই। ফলে ২ রানে দরকার পড়ে ৭ রান। আবারও ইয়র্কারের চেষ্টায় কলকাতার পেসার গড়বড় করে ফেললেন। প্রায় ওয়াইড লাইনে তার ফুল লেংথের বল হাঁটু গেড়ে প্রবল শক্তিতে ব্যাট চালালেন মুকুল। কাভার দিয়ে হয় ছক্কা, শেষ বল ব্যাটে না লাগলেও দৌড়ে এক রান নিয়ে ফেলেন মুকুল-আভেশ। 

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নামা কলকাতা শুরুতেই ওপেনার ফিন অ্যালেনকে (৯) হারায়। তবে ৮৪ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা সামলে উঠেন অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী। রাহানে ২৪ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ এবং রঘুবংশী ৩৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করেন। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে কলকাতায় নাম লেখানো ক্যামেরন গ্রিন এদিনও বলার মতো কিছু করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৪ বলে ৩২ রান করলেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। আরেকপ্রান্তে অবশ্য রভম্যান পাওয়েল ২৪ বলে ৩৯ রান করে দলকে ১৮১ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেন। কলকাতার ৪ বোলার শিকার করেন একটি করে উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে লখনৌ প্রথম চার ওভারে উইকেট না হারিয়ে ৪১ রান তোলার পরই পথ হারায়। মিচেল মার্শ (১৫), এইডেন মার্করাম (২২), অধিনায়ক ঋশভ পান্ত (১০) দ্রুতই ফিরেছেন। আসরে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে গ্রিন দ্বিতীয় বলেই ফেরান পান্তকে। বিপদে পড়া লখনৌর হাল ধরেন ‘ইম্প্যাক্ট ক্রিকেটার’ হিসেবে নামা আয়ুশ বাদোনির। ৩৪ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি আশা বাঁচিয়ে রাখেন। তবে তার বিদায়ে তাতে কিছুটা চিড় ধরে। অখ্যাত ক্রিকেটার মুকুল আইপিএলে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে লখনৌকে পথ হারাতে দেননি।

বৈভবের করা ১৭তম ওভারে মুকুল চার মারার পরের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির বিখ্যাত ‘হেলিকপ্টার শটে’ নিজের প্রথম ছক্কা হাঁকান। ওই ওভারে আসে ১৭ রান। এরপর কার্তিক তিয়াগিকে দুটি ছক্কার পর ওই ওভারে ১৮ রান তোলেন। গ্রিনের করা ১৯তম ওভারের তৃতীয় বল লং লেগের ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়ান মুকুল। ৮ বলে দরকার যখন ২৪, গ্রিনের শেষ দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। এরপর মিলিয়েছেন শেষ ওভারের সমীকরণ। ২৭ বলে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে নিশ্চিত করেছেন লখনৌর তিন ম্যাচে দ্বিতীয় জয়। কলকাতার পক্ষে বৈভব ও অনুকুল রায় ২টি করে উইকেট নেন।

পাঠকের মন্তব্য