২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট ডিজিটাল সল্যুশন ‘কর্পনেট’-এ ২,২৭,৩২১ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন

২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’ এক লক্ষণীয় মাইলফলক অর্জন করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৮০ লাখ ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৩২১ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটিতে মোট লেনদেনের পরিমাণে বাৎসরিক ৪৩% এবং লেনদেনের সংখ্যায় বাৎসরিক ৩৮% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের কর্পোরেট ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবার দ্রুত সম্প্রসারণের প্রতিফলন।

বর্তমানে ‘কর্পনেট’-এ প্রায় ২,৫০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে এবং শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ৯০০টিরও বেশি নতুন কর্পোরেট ক্লায়েন্ট এই প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছে। কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল, সহজ ও নিরাপদ লেনদেনের ওপর নির্ভর করছে, এটি তার-ই প্রতিফলন। প্ল্যাটফর্মটির অ্যাকটিভ ক্লায়েন্টের হার ৬৫%অর্থাৎ, অনবোর্ডকৃত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানই তাদের প্রতিদিনের ব্যাংকিং কার্যক্রমে ‘কর্পনেট’ ব্যবহার করছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী

সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ‘কর্পনেট’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পেমেন্ট, কালেকশন, রিপোর্টিং এবং সার্ভিস রিকোয়েস্ট সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। এখানে রয়েছে ২৪/৭ যেকোনো স্থান থেকে অ্যাপ্রুভাল ও প্রসেসিংয়ের সুবিধা। এর সহজ ও কার্যকর ওয়ার্কফ্লো ম্যানুয়াল কাজ কমিয়ে দ্রুত অ্যাপ্রুভাল নিশ্চিত করে এবং হোস্ট-টু-হোস্ট কানেক্টিভিটি ও এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে কোম্পানির ইআরপি সিস্টেমের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সংযোগ নিশ্চিত করে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রিয়েল-টাইমে তাদের নগদ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে, যা ফান্ড ম্যানেজমেন্টে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

মাল্টি-লেভেল সিগনেটরি, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং ইনস্ট্যান্ট ট্রানজ্যাকশন অ্যালার্টসহ প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কাঠামোতেও রয়েছে পূর্ণাঙ্গ গভর্নেন্স। অটোমেটেড পেরোল, বাল্ক পেমেন্ট আপলোড, গভর্নমেন্ট বিল পেমেন্ট এবং এ-ফোর চেক ও পে-অর্ডারের মতো ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ‘কর্পনেট’-কে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেজারি পার্টনারে পরিণত করেছে। ২০২৫ সালে মোট লেনদেন সংখ্যার প্রতি ১০০টির মধ্যে ৮৫টিই ডিজিটালি সম্পন্ন হয়েছে, যা এই প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।

সহজতর কালেকশন ব্যবস্থা

‘কর্পনেট’-এর উন্নত কালেকশন সল্যুশন— ডিরেক্ট ডেবিট ইনস্ট্রাকশন এবং ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভুলভাবে নিজেদের ক্যাশফ্লো ট্র্যাক করার সুযোগ দেয়।

ই ব্যবস্থায় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে হাজারো ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে বিভক্ত করা যায়, যেখানে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট নির্দিষ্ট গ্রাহক, অঞ্চল বা ব্যবসায়িক ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিকনসিলিয়েশন সম্পন্ন হয়। ডিরেক্ট ডেবিট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব, যা প্রতিষ্ঠানের কালেকশন প্রক্রিয়াকে সহজ এবং নগদ প্রবাহের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর সেবায়

‘কর্পনেট’-এর ক্লায়েন্ট বেস বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় সব খাতজুড়ে বিস্তৃত। শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যাল, এফএমসিজি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউশন হাউস, হাসপাতাল, এনজিও, দূতাবাস, শিপিং লাইন ও এয়ারলাইন, বহুজাতিক কোম্পানি, উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্লায়েন্টসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের বাল্ক পেমেন্ট, রিয়েল-টাইম কালেকশন, কমপ্লেক্স সাপ্লায়ার পেমেন্ট এবং বৃহৎ পরিসরের পেরোল ম্যানেজমেন্টের জন্য ‘কর্পনেট’-এর ওপর আস্থা রাখছে।

দেশের সকল বিজনেস সেক্টরজুড়ে ব্র্যাক ব্যাংক ‘কর্পনেট’-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিজনেস মডেল, পেমেন্ট প্যাটার্ন এবং কমপ্লায়েন্স ইস্যু ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবগুলো এক প্ল্যাটফর্মেই দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব।

ব্র্যাক ব্যাংকের এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্মার্ট করেছে আমাদের কর্পনেট। এখানে প্রতিটি ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ম্যানুয়াল কাজ কমায়, কাগজের ব্যবহার হ্রাস করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ায়। ফলে, আমাদের ক্লায়েন্টরা এখন আরও দক্ষভাবে ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছে, যা তাদের সময় ও খরচ সাশ্রয় করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে করেছে গতিশীল। ভবিষ্যতে আমরা ‘কর্পনেট’ ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত করব, যা নতুন সেবা ও অ্যানালিটিক্স সংযোজনের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের কর্পোরেট ব্যাংকিং আরও কার্যকর স্বচ্ছ করে তুলবে।”

উল্লেখ্য, কর্পোরেট ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’ দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং স্মার্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নতুন মানদণ্ড স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্পোরেট ডিজিটাল ব্যাংকিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

পাঠকের মন্তব্য