আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ৯ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ বৃহস্পতিবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামি হলেন-সাবেক এসাই বিভূতিভূষণ রায়, রংপুর পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সাবেক ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম নয়ন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় এই মামলার ৩০ আসামির সবার সাজা হয়েছে।
এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য আসামিদের মধ্যে পলাতক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে দশ বছর। রাফিল হাসান ও রাসেল রহমান তুফানকে ৫ এবং ৩ বছরের সস্ত্রম কারাদণ্ড। মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছর, পলাতক পমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর, মাহফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বি, আখতার হোসেন, সেজান আহমেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেনকে ৩ বছর, ইমরান চৌধুরী আকাশ ও মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছর, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে ৩ বছর, নুর আলম মিয়াকে ৩ বছর, মাহবুবুর রহমানকে ৫ বছর, একেএম আমির হোসেনকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডা. মো. সারওয়াত হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছর, সাবেক উপাচার্য ডক্টর হাসিবুর রশিদকে দশ বছর, মনিরুজ্জামান বেলটুকে ১০ বছর, আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছর, শাহানুর আলম পাটোয়ারীকে ৫ বছর, শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামি আনোয়ার পারভেজ আপেলের হাজতবাসের সময়কে সাজা হিসেবে গণনা করে অন্য মামলা না থাকার শর্তে কারামুক্তি দিতে বলা হয়েছে।
বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।