২০২৫ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) ২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ফলাফল অর্জন করেছে। ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা (চঅঞ) ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও আয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক কাঠামোর  প্রতিফলন ।

সুশখল ব্যালান্স শিট ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়¿ণে দক্ষতার কারণে   ব্যাংকটির প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাছ। আমানত (ডিপোজিট) ২১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫,৬৪৫ কোটি টাকায় উনীত হয়েছে। ঋণ ও আডভান্স ১৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭,৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে । বিনিয়োগ খাতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে-- ৪৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১,১৪৭ কোটি টাকায় উনীত হয়েছে।

সম্পদের গুণগত মান (অংংবঃ ছঁধষরঃু) ইবিএলের অন্যতম শক্তিশালী দিক ।  ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার (ঘচখ) কমে ২.২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই শিল্পখাতের গড় ৩০.৬০ শতাংশ এর তুলনায় অনেক কম। এর মাধ্যমে ব্যাংকের কঠোর ঋণনীতি ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি, ব্যাংকটি বছরজুড়ে সব নিয়¿ক ও ইঅঝঊখ ওওও সংশ্লিষ্ট তারল্য শর্ত পূরণ করেছে এবং কোনো নিয়মের ব্যতিক্রম করেনি।

লাভজনকতার সূচকগুলোতেও উনতি সুস্পষ্ট। রিটার্ন অন ইক্যুইটি (জঙঊ) ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ১৯.১৩ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ১৮.৫৭ শতাংশ । কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪০.৩৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা ব্যাংকিং  শিল্পে যথেষ্ট কম বলে স্বীকৃত। ব্যাংকের কার্যকর পরিচালনার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।

শেয়ারধারীদের জন্য ভ্যালু সৃষ্টি  অব্যাহত রেখেছে ইবিএল। শেয়ারপ্রতি আয় (ঊচঝ) বেড়ে হয়েছে ৫.৬৫ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.৭০ টাকা (পুনঃনির্ধারিত)। একইসঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য   বৃদ্ধি পেয়ে ৩১.৮৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ২৭.১৬ টাকা।

ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে ব্যাংকটি মূলধন ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে। ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (ঈজঅজ) একক ভিত্তিতে বেড়ে হয়েছে ১৫.৪৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৫.১১ শতাংশ ।

সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে ইবিএলের এই পারফরম্যান্স ব্যাংকটির আর্থিক শক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক রিটার্ন দেওয়ার সক্ষমতাকে পুনরায় প্রমাণ করেছে। ২০২৬ সালে টেকসই প্রবৃদ্ধি, ঝুঁকি নিয়¿ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংকটি আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছে।

 

পাঠকের মন্তব্য