দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিসার নেট রাজস্বে ১৭% প্রবৃদ্ধি, বেড়েছে আয়ও

বিশ্বের শীর্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা ইনকরপোরেটেড ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। রাজস্ব, আয় এবং লেনদেন সব ক্ষেত্রেই ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থিতিশীল ভোক্তা ব্যয় এবং নতুন উদ্ভাবনী সেবার কারণে এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।

৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত, এই প্রান্তিকে ভিসার জিএএপি ভিত্তিক নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা শেয়ারপ্রতি ৩.১৪ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নিট আয় ৩২ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ খাত ও কর সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিলে, নন-জিএএপি ভিত্তিতে নিট আয় হয়েছে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার, বা শেয়ারপ্রতি ৩.৩১ ডলার। এ ক্ষেত্রে নিট আয় ১৭ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় ২০ শতাংশ বেড়েছে। কনস্ট্যান্ট ডলার ভিত্তিতে হিসাব করলে, জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং নন-জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

ভিসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রায়ান ম্যাকিনার্নি বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিসার নেট রাজস্ব ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এর ফলে জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং নন-জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২০ শতাংশ। ভোক্তা ব্যয় শক্তিশালী ছিল এবং কোম্পানির নতুন সেবা ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ কনজ্যুমার পেমেন্ট, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং মানি মুভমেন্ট সেবায় ভালো ফল দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্ত করতে ‘ভিসা এস এ সার্ভিস’ প্ল্যাটফর্মে নতুন সক্ষমতা যোগ করে করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।’

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিসার মোট নেট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১১.২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। কনস্ট্যান্ট ডলার হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশ। পেমেন্ট ভলিউম, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং মোট প্রসেসড ট্রানজ্যাকশন বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।

৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শেষ তিন মাসে পেমেন্ট ভলিউম ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত তিন মাসে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ। ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন বাদ দিলে আন্তর্জাতিক লেনদেন বেড়েছে ১১ শতাংশ, আর মোট ক্রস-বর্ডার লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ। একই সময়ে মোট ৬৬.১ বিলিয়ন লেনদেন প্রসেস হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। 

রাজস্বের বিভিন্ন খাতেও শক্তিশালি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সার্ভিস রেভিনিউ ১৩ শতাংশ বেড়ে ৫.০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ডাটা প্রসেসিং রেভিনিউ ১৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে আয় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য আয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ক্লায়েন্ট ইনসেনটিভ ছিল ৪.২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

জিএএপি ভিত্তিতে অপারেটিং ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪.০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। মূলত আইনি ব্যয় কমে যাওয়ায় এই ব্যয় কমেছে। তবে নন-জিএএপি ভিত্তিতে অপারেটিং ব্যয় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা মূলত জনবল ও বিপণন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ভিসার হাতে নগদ অর্থ, নগদ সমতুল্য এবং বিনিয়োগ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে মোট ১৪.২ বিলিয়ন ডলার ছিল।

পাঠকের মন্তব্য