কোন অভ্যাসগুলো আপনার প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট করে দিচ্ছে?

যদিও বেশিরভাগ মানুষ মনোযোগী এবং নিজ নিজে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে চান, তবে কেবল কয়েকজনই তা করতে সক্ষম হন। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে সফল এবং উৎপাদনশীল ব্যক্তিরা বাকিদের থেকে কেন আলাদা? তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসই তাদের কর্মক্ষেত্রে আরও মনোযোগী থাকতে সাহায্য করে।

কিছু ছোটখাটো অভ্যাস আপনার প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট করে দিতে পারে। স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারে অযথা স্ক্রোল আপনার ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করে দিতে পারে, পরিপূর্ণতার অনুভূতি অগ্রগতিকে পঙ্গু করে দেয়। এই ফাঁদগুলো সনাক্ত করে সেগুলো বাদ দিতে পারলেই আপনি নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসগুলো আপনার প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট করে দিচ্ছে-

মাল্টিটাস্কিং মিথ

বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে মাল্টিটাস্কিং অস্থায়ীভাবে আইকিউ ১৫ পয়েন্ট হ্রাস করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাল্টিটাস্ক করা ব্যক্তিরা প্রতিটি কাজে পুনরায় ফোকাস করতে ২৩ মিনিট সময় নেয়। এর সমাধান হলো এক সময়ে একটি কাজ করা। প্রথমদিকে কঠিন মনে হলেও এভাবে অভ্যাস করতে পারলে ২১ দিনের মধ্যে মস্তিষ্ক একক কাজে অভ্যাস্ত হয়ে যাবে। এতে দ্রুত শেষ হবে চাপ কমে যাবে।

আমরা যে ডিজিটালি সংযুক্ত বিশ্বে বাস করি তা বিবেচনা করে, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় বার্তা এবং টেক্সট আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি আপনার মূল্যবান সময় সহজেই নষ্ট করতে পারে। এটি ঠিক করার জন্য যেকোনো কাজের সময় আপনার ডিভাইসগুলো দূরে সরিয়ে রাখুন। শুধুমাত্র জরুরি কল হলে তা রিসিভ করুন। এমনকী কম্পিউটারে কাজ করলেও কেবল প্রয়োজনীয় ট্যাবগুলো খুলে রাখুন।

সকালের কোনো রুটিন না থাকা

আপনি আপনার সকাল কীভাবে শুরু করেন সেই অভ্যাস দিনের বাকি সময়টা কেমন যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়। তাই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা, ব্যায়াম করা এবং দিনের ধীর শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। এই সকালের রুটিন আপনাকে সময়সূচীর ওপর নিয়ন্ত্রণ দেবে, এইভাবে অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে আপনার সময় এবং মনোযোগ বাঁচাবে।

সাপ্তাহিক পর্যালোচনা না থাকা

প্রতি সপ্তাহে নিজেকে নিয়ে বসুন। অর্থাৎ পুরো সপ্তাহে আপনি কী করলে তা নিয়ে ভাবুন। যদি সেই একই রুটিন দেখতে পান, যেখানে কোনো অর্জন নেই, তবে আপনার গতানুগতিক জীবন কাটানোর জন্য তৈরি থাকুন। কারণ আপনি কোনো চেষ্টা বা পরিশ্রম না করে সফলতার পথে কখনো হাঁটতে পারবেন না। তাই নিজের অগ্রগতি বোঝার জন্য প্রতি সপ্তাহে একদিন নিজের কাজের হিসাব নিন।

পাঠকের মন্তব্য