বিসিবির ফিন্যান্স কমিটিতে পুনর্বহাল নাজমুল
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
ক্রিকেটারদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করা এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ চেয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। স্ট্রাইকের কারণে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে নাজমুলকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই খবর বিসিবি প্রচার করেছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এরপর ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে খেলার মাঠে ফেরানো হয়েছিল।
বিপিএল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাজমুলের বিষয়টি চাপা রেখেছিলেন বুলবুল। ২৩ জানুয়ারি বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচ শেষে ছুটিতে গেছেন ক্রিকেটাররা। এই ফাঁকে এম নাজমুল ইসলামকে পুনর্বহাল করা হয়েছে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদে। বিসিবি শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান মিতু জানান, শনিবার বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, সভাপতির ক্ষমতাবলে নাজমুলকে পুনর্বহাল করেছেন আমিনুল ইসলাম।
এম নাজমুল ইসলাম ১৫ জানুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজমুল বিসিবি সভাপতি কোরামের একজন পরিচালক। এ কারণে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে গিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে বিসিবি ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান বলেন, ‘নাজমুল ভাই কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় আমরা ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছি। এই রিপোর্ট বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হলে তাঁকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়।’
নাজমুলকে ফিন্যান্স কমিটিতে পুনর্বহাল করায় ক্রিকেটারদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোয়াবের আন্দোলন ভুল ছিল কিনা জানতে চেয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে সিনিয়র সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সভাপতি তাঁর ক্ষমতাবলে নাজমুল ভাইকে পুনর্বহাল করেছেন। কারণ ফিন্যান্স কমিটির দায়িত্ব কেউ নিতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়া মানুষ হিসেবে নাজমুল ভাই সৎ। সবদিক বিবেচনা করে সভাপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বিসিবি সভাপতির এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ক্রিকেটারদের কাছে জানতে চাওয়া হলে কেউ কিছু বলতে রাজি হননি। কোয়াব সভাপতি মিঠুন বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। মবের ভয়ে সাবেক ক্রিকেটাররাও কোনো প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন না। নাম গোপন রাখার শর্তে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা এখন মবের ভয়ে আছি। কোয়াব সভাপতিকে দেশ-বিদেশ থেকে যেভাবে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা চিন্তার কারণ। এবার কিছু বলা হলে প্রাণনাশের মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই। নির্বাচিত সরকার এলে নিশ্চয়ই পরিস্থিতি ভালো হবে।’