মিনিয়াপোলিসে আরেকটি হত্যা, ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংকট
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন নতুন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করা হচ্ছে।
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে দক্ষিণ মিনিয়াপোলিসের নিকোলেট অ্যাভিনিউ ও ২৬ নম্বর সড়কের কাছে এই ঘটনা ঘটে। বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগ বোভিনো জানান, এজেন্টরা অভিযান চালাচ্ছিলেন। তখন প্রেটি একটি ‘৯ এমএম সেমি-অটোমেটিক’ হ্যান্ডগান নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। প্রেটি বন্দুক দেখিয়েছিলেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। গ্রেগ বেভিনো বলেন, তাকে নিরস্ত্র করার সময় ‘হিংস্রভাবে বাধা’ দেন। ফলে একজন কর্মকর্তা ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ চালান।
তবে ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ফোন দিয়ে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, এজেন্ট এক নারীকে ধাক্কা দিচ্ছেন এবং প্রেটি ওই নারীকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। এরপর এজেন্ট প্রেটির চোখে কিছু একটা স্প্রে করেন। প্রেটি মুখ সরিয়ে নেন এবং একটি হাত ওপরে তোলেন। তখন তার অন্য হাতে একটি ফোন দেখা যায়, কোনো বন্দুক নয়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কমপক্ষে ছয়জন এজেন্ট প্রেটিকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেছেন। একজন এজেন্টকে তার মাথায় আঘাত করতেও দেখা যায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে একজন এজেন্ট খুব কাছ থেকে গুলি শুরু করেন। মোট ১০টি গুলির শব্দ শোনা যায়।
বন্দুক নিয়ে বিতর্ক: ট্রাম্পের সাফাই
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, ‘একদল লোক কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছে।’ মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, প্রেটি একজন বৈধ বন্দুকের মালিক ছিলেন। ঘটনার পর ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই সেই বন্দুক, লোড করা ছিল (সঙ্গে আরও দুটি ভর্তি ম্যাগাজিন)! এসবের মানে কী? স্থানীয় পুলিশ কোথায়? কেন তাদের আইসিইর সুরক্ষা দিতে দেওয়া হলো না?
জনমতে ধস ও নতুন মেরূকরণ
গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, চলমান অভিযানে কিছু ‘ভুল’ হচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনমত নিজেদের বিপক্ষে চলে যাওয়ার ভয়ে প্রশাসন সুর নরম করছে। এক মাস ধরে আইসিইর ওপর মানুষের আস্থা দ্রুত কমছে। সিবিএস নিউজ ও ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন আইসিই ‘কঠোর’ আচরণ করছে।