ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২ এপ্রিল, ২০২৬
মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি দাবি করে ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্বজনরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
স্বজনরা বলেন, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার পরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং জামিন পাওয়ার পরও পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে।
সেলিম প্রধানের বোন স্মৃতি প্রধান বলেন, আমার ভাইকে বারবার মিথ্যা মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ছোটবেলা থেকে জাপানে বেড়ে ওঠা সেলিম প্রধান দেশে ফিরে রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। জাপানের মতো করে নিজ এলাকাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা বাধা দেয়।
স্মৃতি প্রধান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর হস্তক্ষেপে সেসময় সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে চার বছরের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তখন তাকে বিএনপিকে আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগে ফাঁসানো হয়। এখন আবার নতুন করে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই আগস্টের পক্ষে কাজ করা সেলিম প্রধানকে গত বছর বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সে মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একাধিকবার জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তিনি মামলাতে অন্তর্ভুক্ত আসামি না হয়েও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।
আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, সেলিম প্রধানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমাদেরকে এই অন্যায় ও হয়রানির হাত থেকে মুক্ত করুন এবং সেলিম প্রধানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের চিহ্নিত করুন।
সেলিম প্রধানের পরিবারের আরেক সদস্য রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন জাপানে থাকার পর দেশে ফিরে সেলিম প্রধান ব্যবসা ও সমাজসেবায় যুক্ত হন। কিন্তু দেশে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাকে জেলে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেলিম প্রধান সবসময় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং সমাজের অসংগতি তুলে ধরেছেন। তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা আগেও তার প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছে। এখনও তাকে জেলে রেখে সেই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।