আইইবিতে উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের উদ্যোগে অটোক্যাড প্রশিক্ষণ শুরু

প্রযুক্তিনির্ভর প্রকৌশল চর্চায় দক্ষতা বাড়াতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ‘AutoCAD: 2D Drafting and 3D Modeling’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ৯ ও ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শাখার প্রকৌশলীরা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকেরা জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার সব সময়ই সুশৃঙ্খল ও মানসম্মতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে, যা প্রশংসার দাবিদার।

তিনি বলেন, অতীতে প্রকৌশলগত কাজ সম্পাদনের জন্য লগ টেবিল ও পরে ক্যালকুলেটরের ওপর নির্ভর করতে হতো। প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে অটোক্যাডের ব্যবহার শুরু হয় এবং বর্তমানে এটি প্রকৌশল কাজে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, এখন প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে এবং ত্রিমাত্রিক (3D) ডিজাইন ও ভিজ্যুয়ালাইজেশনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় অটোক্যাড মূলত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে প্রায় সব প্রকৌশল শাখায় এর ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। তাই এ সফটওয়্যারের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বিশেষ করে মেটেরিয়ালস বিষয়ক গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; বাস্তব দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারবে, তারা কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক বিশেষ অতিথি আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এটিএম তানবীর-উল হাসান তমাল বলেন, আগে প্রকৌশল ড্রইংয়ের কাজ টেবিলে টি-স্কেল ব্যবহার করে করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। অটোক্যাডের ব্যবহার শুরু হওয়ার ফলে ড্রইং প্রণয়ন ও সংশোধনের কাজ সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হয়েছে। তাই সকল প্রকৌশলীর জন্য অটোক্যাড শেখা জরুরি বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহানাজ শারমিন। তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সময়ে অটোক্যাডের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং এর কার্যকর বিকল্প নেই বললেই চলে। এ প্রশিক্ষণে অটোক্যাডের বেসিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিভিন্ন শাখার প্রকৌশলীরা প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। যদিও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের সম্পাদক প্রকৌশলী ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরে আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে অটোক্যাড প্রশিক্ষণের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে একটি সুস্পষ্ট ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার চাহিদা বেড়েছে। অটোক্যাড ডিজাইন প্রকল্পের ধারণাকে বাস্তবসম্মত রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর ও বোধগম্য করে তুলছে।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাঠকের মন্তব্য