ওয়ালটনের ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ৩০ অগাস্ট, ২০২৬
শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ। গত হিসাব বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে। অন্যান্য আর্থিক সূচকেও অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
শনিবার ওয়ালটনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫৪তম সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ এবং প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি বোনাস শেয়ার পাবেন।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ১,১২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে মুনাফা হয়েছিল ১,০৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা।
ওয়ালটন জানায়, কোম্পানির আয় বৃদ্ধির পেছনে নিট রেভিনিউ গত বছরের চেয়ে ৩২২ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যয় ২৬৭ কোটি টাকা হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬৩ টাকা ৭২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫২ টাকা ৯১ পয়সা। এ উন্নতির পেছনে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ৬৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে আসা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুনর্মূল্যায়নসহ ওয়ালটনের মোট নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ১২ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।
পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে হয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৬৩ টাকা ৪০ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও ২৬২ টাকা ৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ কোম্পানির চলমান গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমে অর্থায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। এ স্টক লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে রিটেইনড আর্নিংস থেকে প্রদান করা হবে।
লভ্যাংশ প্রাপ্তির জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। কোম্পানির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৫ অক্টোবর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেটে যেসব শেয়ারহোল্ডারের নাম সিডিবিএল ডিপোজিটরি রেজিস্টারে থাকবে, তারা ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার পাশাপাশি এজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন।