নবীনগর সরকারি কলেজে টেস্ট পরীক্ষায় পাসের আশ্বাস দিয়ে অর্থ বাণিজ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ও নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে আশ্বাস দেন টেস্ট পরীক্ষায় খাতায় কিছু না লিখলেও তাদের উত্তীর্ণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি পূর্ণাঙ্গ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতির প্রতিশ্রুতিও দেন।

এই আশ্বাসে অনেক শিক্ষার্থী প্রলুব্ধ হয়ে অর্থ প্রদান করেন। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফরম পূরণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ও নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার যোগসাজশে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আলাদা আলাদা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং মোট অর্থের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ রসায়ন বিভাগের শিক্ষক সাইদুল ইসলাম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘নৈশপ্রহরী সামিম ভাই আমাকে বলেছেন কিছু শিক্ষার্থী পাস করানোর জন্য তার কাছে নিয়ে যেতে। পরে আমি প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে তার কাছে নিয়ে যাই। তখন তিনি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।’ অভিযুক্ত নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম রেজাউল করিম বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং রসায়ন বিভাগের শিক্ষককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখনও সরাসরি আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য