স্বপ্ন ফুড কোর্টে লাইভ মিউজিক
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১৬ মে, ২০২৬
সঙ্গীতপ্রেমী ও ভোজনরসিক হিসেবে বাঙালির সুনাম আছে। এ দুটো বিষয়ের সমন্বয় দেখা যায় মিউজিক ক্যাফেতে। খেতে খেতে গান শোনা, কিংবা গান শুনতে শুনতে আহার, যেটাই বলি না কেন মিউজিক ক্যাফের সংস্কৃতি কোভিডের আগে ঢাকায় বেশ জমে উঠেছিল।
এটা ঠিক যে, রাজধানীর ভোজনবিলাসী নাগরিকদের অভিজ্ঞতা রয়েছে রেস্টুরেন্টে লাইভ মিউজিকের সঙ্গে খাবার উপভোগের। কিন্তু সুপারশপের আউটলেটে লাইভ মিউজিক? এমনটা আগে দেখা যায় নি। এক্ষেত্রে স্বপ্নকে পথিকৃৎ মানতে হবে। হ্যাঁ প্রথমবারের মতো এ অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন ঢাকাবাসী, আরও স্পষ্ট করে বললে মগবাজার ও তার আশেপাশের এলাকা যেমন মালিবাগ-মৌচাক ও ইস্কাটনের গানপ্রিয় মানুষ এটি নিয়মিত উপভোগ করছেন। চলতি মে মাসে যাত্রা শুরু করা মগবাজারের দ্বিতল স্বপ্ন আউটলেটের ফুড কোর্ট সুরের তালে তালে বেশ জমে উঠেছে। এখানে প্রতি সন্ধ্যাতেই পরিবেশিত হচ্ছে গান। কেবল ব্যান্ড মিউজিক নয়, আধুনিক বাংলা গানসহ বিচিত্রমুখী গান, এমনকি জনপ্রিয় ইংরেজি গানও পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। গান শুনে অর্থ-উপহার দিয়ে শিল্পীকে সম্মানিত করার রেওয়াজ তো বাঙালির রয়েছেই। মগবাজার স্বপ্ন সুপারশপে এমন আনন্দময় ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। বর্তমানে সপ্তাহে সাতদিনই সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইভ পারফর্মেন্স হচ্ছে এখানে। তবে সুপারশপ খুলছে যথানিয়মে সকাল নয়টায়। এখানে পর্যায়ক্রমে সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পী তারেক, আলিফ, রতন, সাদি ও লোবান।
সাশ্রয়ী মূল্যে ফুড কোর্টের খাবারে রয়েছে হরেক রকম আয়োজন। স্যুপের মধ্যে আছে থাই স্যুপ ১২০ টাকা। বিফ রেজালা উইথ খিচুড়ি ১৬৫ টাকা। ফ্রাইড রাইস উইথ চিকেন ২২০ টাকা। এমনকি রয়েছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকায় সবজি বা ডিম ওমলেট দিয়ে নাস্তাও সারার সুব্যবস্থা। সমুচা, ভেজিটেবল রোল, পিৎজা, স্যান্ডউইচ, বার্গার তো রয়েছেই। আছে মজাদার ডেজার্টও। মাত্র ১০০ টাকা করে মিলছে তিন রকমের জুস। এছাড়া আছে বেশ কয়েক রকমের হট ও কোল্ড কফি। এসপ্রেসো (ডবল) মাত্র ১৪০ টাকা, ক্যাপুচিনো ১৭০ টাকা, অ্যামেরিকানো লার্জ ১৭০ টাকা।
সদ্য চালু হওয়া মগবাজার স্বপ্ন আউটলেটের ফুড কোর্টে গান শুনতে শুনতে রাতের ভোজনও সেরে ফেলছেন কেউ কেউ। এটা ঠিক যে কোভিডের পরে ঢাকার মিউজিক ক্যাফেগুলোর সংখ্যা দুঃখজনকভাবে কমে এসেছে। তাই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে চ্যলেঞ্জ নিয়ে স্বপ্ন ফুড কোর্টে লাইভ গানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ঢাকাবাসী ফিরে পাবে সঙ্গীত ও খাবারের মেলবন্ধনের সেই মুগ্ধকর সংস্কৃতি। সন্ধ্যাগুলো হয়ে উঠবে আরও সাংগীতিক ও প্রাণবন্ত।