ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স : ইয়ুথস ভয়েস স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬

ইয়ুথ’স ভয়েস সিচো এরিনার সহযোগিতায় স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ তিন দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ মে চট্টগ্রামে শেষ হওয়া এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা (MHM) বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্কুল ও স্থানীয় পর্যায়ে ঋতুস্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কার্নিভালের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘ইয়ুথস ভয়েস’। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে ফুটসাল, ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টন এই ৩টি খেলায় ৬০টি দলের ৪২০ জনেরও বেশি অ্যাথলেট মোট ৮০টিরও বেশি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

টুর্নামেন্টে ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের দলই অংশ নেয়। আয়োজকেরা জানান, ঋতুস্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের প্রচলিত জড়তা ও কুসংস্কার দূর করতে এবং তরুণদের এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি সহমর্মী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতেই সচেতনভাবে এই ফরম্যাটটি সাজানো হয়েছিল।

ইয়ুথ’স ভয়েসের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মোফাস্সাল আজিজ বলেন, খেলাধুলা মানুষকে দ্রুত এক সুতোয় বাঁধে। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা সমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছি ঋতুস্বাস্থ্য কোনো লজ্জার বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক অগ্রাধিকার।

সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান বলেন, বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক সচেতনতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আমাদের কাজেরই একটি ধারাবাহিক প্রকাশ এই কার্নিভাল। ঋতুস্বাস্থ্য নিয়ে স্বাভাবিক আলোচনার পথ তৈরিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

কার্নিভালের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন দেশের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও পাবলিক ফিগার নওশাদ রহমান, ফায়েদ আবরার মজুমদার এবং ইতরাত। তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এই আয়োজনে পাওয়ার পার্টনার হিসেবে ইভেন্ট পরিচালনা ও লজিস্টিকস সহযোগিতা দিয়েছে ‘সিকো অ্যারেনা’। এছাড়া নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ঋতুস্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘সেফপ্যাড বাংলাদেশ’ নারী বিভাগের বিজয়ীদের বিশেষ পুরস্কার স্পনসর করার মাধ্যমে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

উল্লেখ্য, ‘ইয়ুথ ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফাউন্ডেশন’র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়ুথস ভয়েস’ গত ১১ বছর ধরে স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ঋতুস্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করে আসছে। ২০২৬ সালের এই স্পোর্টস কার্নিভালটি যুবসমাজ ও গণপরিসরে এই সচেতনতাকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় প্রচেষ্টা। আয়োজকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঋতুস্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের নীরবতা ভাঙা এবং সবার জন্য সমতা, সচেতনতা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।

পাঠকের মন্তব্য