তিতাস সেতু এখন দুই উপজেলার মানুষের প্রাণের বিনোদনকেন্দ্র
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২৪ জুলাই, ২০২৬
হারুন অর রশিদ, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার হোমনা ও মুরাদনগর উপজেলার একমাত্র সংযোগস্থল তিতাস সেতু এখন শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই সেতু ও এর আশপাশের এলাকাজুড়ে নেমে আসে দর্শনার্থীদের ঢল।
প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ, তিতাস নদীর শীতল বাতাস এবং নদীর বুকে নৌবিহারের সুযোগ—সব মিলিয়ে এই এলাকাটি এখন পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
সেতুর দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চা-কফির দোকান, ফাস্টফুড কর্নার, ভ্রাম্যমাণ খাবারের স্টল এবং মনোরম পরিবেশে সাজানো রেস্টুরেন্ট। বিকেলের অবসর সময়টুকু উপভোগ করতে এখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে তিতাস নদীর বুকে নৌবিহার। ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় ভাড়ায় পাওয়া যায় বিভিন্ন আকারের নৌকা। নদীর শান্ত জলে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে কেউ বাদাম খাচ্ছেন, কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠছেন, কেউবা স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখতে সেলফি তুলছেন। অনেককে আবার নৌকায় বসে গুনগুন করে গান গাইতেও দেখা যায়।
সেতুর ওপরের দৃশ্যও কম মনোমুগ্ধকর নয়। মৃদু বাতাসে দাঁড়িয়ে কেউ উপভোগ করছেন সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মগ্ন, আবার কেউ হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা কিংবা কফি নিয়ে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন বিকেল।
নদীর বুকে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দে এগিয়ে চলা, পানির মৃদু ঢেউ আর অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো—সব মিলিয়ে তিতাস সেতু এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব নৈসর্গিক পরিবেশ, যা সহজেই মুগ্ধ করে আগত দর্শনার্থীদের।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে তিতাস সেতুকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে, তেমনি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হবে।