শেয়ার জালিয়াতি: সিনেসিস আইটিকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা বিটিআরসির

একের পর এক অনিয়ম, আইন অমান্য এবং সরকারি প্রকল্পে বিতর্কিত সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও বছরের পর বছর পার পেয়ে যাওয়া আইটি প্রতিষ্ঠান ‘সিনেসিস আইটি লিমিটেড’ (Synesis IT Limited)-কে অবশেষে কঠোর শাস্তির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও শেয়ার মূলধন পরিবর্তনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকারও বেশি প্রশাসনিক জরিমানা ও ফি আরোপ করা হয়েছে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই অর্থ পরিশোধ না করে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি টালবাহানা ও মওকুফের আবেদন করে আসলেও, গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বিটিআরসি চূড়ান্তভাবে তা খারিজ করে দিয়েছে। কমিশন সিনেসিসের আবেদনকে ‘বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বকেয়া সব অর্থ দ্রুত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে।

বিটিআরসির ২৯৩তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া গোপনে শেয়ার হস্তান্তর করায় সিনেসিস আইটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানা হিসেবে ১০ লাখ টাকা ধার্য করা হয়।

এছাড়া, হস্তান্তরিত শেয়ারের বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সরকার নির্ধারিত ফি/চার্জ, ভ্যাট এবং বিলম্ব ফি বাবদ আরও ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৯৯ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিটিআরসির পাওনার পরিমাণ আড়াই কোটি টাকারও বেশি।

জরিমানা আরোপের পর সিনেসিস আইটি ‘কল সেন্টার নির্দেশিকা’র দোহাই দিয়ে এই অর্থ মওকুফের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। তবে বিটিআরসির লিগ্যাল শাখা এই আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়।

লিগ্যাল শাখার মতামতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ৩৭(৩)(খ) ধারা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি ছাড়া মূলধন ও মালিকানা পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই আইনি মতামতের ভিত্তিতে কমিশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিনেসিসের মওকুফের আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং পুরো অর্থ কঠোরভাবে আদায়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

অর্থ আদায়ের বিষয়ে বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ বলেন, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক। কমিশনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং ফি মওকুফের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি যেহেতু আইনি, তাই এটি লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় মতামত কমিশনের সামনে উপস্থাপন করবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের প্রাপ্য অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে সিনেসিস আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রুপায়ন চৌধুরী জরিমানা আরোপ এবং বিটিআরসির কাছে মওকুফের আবেদন করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তবে secretly শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগ বা কমিশনের আবেদন নামঞ্জুরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি অবগত নই। বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আমি সরাসরি তদারকি করি না।”

পাঠকের মন্তব্য