লোডশেডিং হলেই অচল রাজবাড়ী রেলস্টেশন, মোবাইলের আলোয় চলে দাপ্তরিক কাজ
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ৩১ জুলাই, ২০২৬
গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়ছেন রাজবাড়ী রেলস্টেশনের যাত্রীরা। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবে অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো স্টেশন, ব্যাহত হয় যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা। শুধু তাই নয়, স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও মোবাইল ফোনের আলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও এখনো মেলেনি আইপিএস বা অন্য কোনো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রেলস্টেশন এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।এ সময় স্টেশনের ১নং লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং ২নং লাইনে অবস্থান করছিল খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। শুধু এ চিত্র একদিনের নয়, প্রায় প্রতিনিয়তই এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রী ও রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী রেলস্টেশনে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই পুরো স্টেশন অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে টিকিট, রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
জানা গেছে, স্টেশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আইপিএস সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইপিএস পাওয়া যায়নি। মিলেছে শুধু আশ্বাস।
বেনাপোল এক্সপ্রেসের এক যাত্রী বলেন, গভীর রাতে পুরো স্টেশন অন্ধকারে থাকায় নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছি। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এটি আরও ভোগান্তির। গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলস্টেশনে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকা দুঃখজনক।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর স্টেশনে কোনো ধরনের জরুরি আলোর ব্যবস্থা ছিল না। অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত আইপিএস বা জেনারেটরের ব্যবস্থা করা উচিত।
স্টেশনে উপস্থিত কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো স্টেশন অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তিতে পড়েন। দ্রুত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহমান বলেন, স্টেশনে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে এ সমস্যা চলমান। আইপিএসের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইপিএস পাইনি, শুধু আশ্বাস পেয়েছি। বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নিতে হয়। দ্রুত একটি আইপিএস বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ী স্টেশনে রিলিফ ট্রেন, সাটল ট্রেন, ভাটিয়াপাড়া/রাজবাড়ী মেইল ট্রেন এবং ৩/৪ টা ইঞ্জিন থাকে, অন্ধকারে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। লোডশেডিং হলে পুরো স্টেশন এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে চুরি, ছিনতাই সহ মাদকসেবীদের বিস্তার বাড়ে। যাত্রীরা এতে অনিরাপদ মনে করে। তাই লোডশেডিং হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) বি এম সেলিম বলেন, স্টেশনের আইপিএসের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। স্টেশন মাস্টার আমাদের বিষয়টি জানিয়েছে। আমি পাকশিতে চাহিদাও দিয়েছি। আমার ডিভিশন অফিস পাকশি থেকে সরবরাহ করলেই রাজবাড়ী স্টেশনে নতুন আইপিএস দেওয়া হবে।
যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, রাজবাড়ী রেলস্টেশনে দ্রুত আইপিএস বা জেনারেটরের মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হলে একদিকে যেমন যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রমও নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।