ফিফার বিতর্কিত বিশ্বকাপ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করল আরও ৪১ দেশ
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ৩১ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে ফিফা বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা করেছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। তাদের ৫৫টি দেশ বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। তাদের মতো বিশ্বকাপ বয়কট অর্জনের সিদ্ধান্ত না নিলেও মধ্য ও উত্তর আমেরিকান ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) ৪১টি দেশ এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
উয়েফা ঘোষণা দিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ। এবার কনকাকাফও তাদের অবস্থান জানাল। তাদের ৪১ দেশের ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্টরা এক বৈঠক করে। তারপর সংস্থাটি বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠক চলাকালীন সদস্যরা প্রস্তাবটি ঘিরে যথাযথ প্রক্রিয়ার ঘাটতি, চাপিয়ে দেওয়া কৃত্রিমভাবে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্বারা যেকোনো পর্যালোচনার বা অনুমোদনের অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক ফিফা বিশ্বকাপের পর নতুন এবং বিদ্যমান ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’
তারা আরও বলেছে, ‘এই আলোচনাটি আরও স্বচ্ছতা ও সঠিক শাসনের প্রয়োজনীয়তাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সমস্ত কারণে কনকাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্য সংস্থা... প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে।
ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে কনকাকাফের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত তাদের আরও শক্তি বাড়াল।