পেরুতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ২ অগাস্ট, ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন। জনপ্রিয় একটি পর্যটন এলাকা পরিদর্শনের সময় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পেরুর নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়া একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ১৩ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই পর্যটক ছিলেন। তারা বিখ্যাত নাজকা লাইনস দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি মাটিতে খোদাই করা বিশাল ভূ-চিত্র নিয়ে গঠিত একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সমষ্টি।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে যে ১১ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।’
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কোনো উদ্ধারকাজ সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো থেকে যাত্রা করেছিল। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পেরু একটি প্রধান পর্যটননির্ভর দেশ। দেশটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো পরিদর্শনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করেন। দেশটির অন্যতম আকর্ষণ মাচু পিচুর ইনকা ধ্বংসাবশেষ এবং কুস্কোর বিশাল আদিবাসী পাথরের দেয়াল।
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
নাজকা লাইনস দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে, আন্দিজ পর্বতমালার নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। বিশ্ব ঐতিহ্যে এর গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) এগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ইউনেস্কো এই স্থানটিকে ‘এর পরিমাণ, প্রকৃতি, আকার এবং ধারাবাহিকতার কারণে প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রহস্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, এই জিওগ্লিফগুলোতে বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ ও কাল্পনিক সত্তার চিত্রের পাশাপাশি কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে। ধারণা করা হয়, এগুলোর আনুষ্ঠানিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ছিল।
বিশাল আকারের কারণে পর্যটকেরা প্রায়ই নাজকা লাইনস আকাশ থেকে দেখার চেষ্টা করেন। এতে বানর, হামিংবার্ড ও বিড়ালের মতো প্রাণীর আকৃতির বিশাল চিত্রগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।