বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করা ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জ্যেষ্ঠ নেতারা মুখে এক কথা বলে পরেরদিনই উল্টে গিয়ে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। 

আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এবি পার্টির সংলাপে এসব কথা বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ। ১৬ মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সরকারের অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পায়নি। সেই সরকারও সাহসী সংস্কার করতে পারেনি।’
 
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সংলাপে অতিথি ছিলেন কবি ফরহাদ মজহার, সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ। 

অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের আরেকটা ভুল আমি বলব, সেটা হচ্ছে এই রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করা। আমরা তো আর জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কখনো রাজনীতি করিনি। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি করতাম, ফলে ছাত্রসংগঠনগুলো যেমন ছাত্র ইউনিয়ন কীভাবে চিন্তা করে, ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির বা অন্যরা কীভাবে চিন্তা করে, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে যখন আসলাম, আমাদের বাবার বয়সী, দাদার বয়সী লোকেরাও যে মুখে এক কথা বলে, পরের দিন প্রতারণা করতে পারে, এটা আমরা প্রথমে আসলে বুঝে উঠতে পারিনি। ফলে তাদের অনেক কিছুতেই হয়তো ভরসা রাখতে গিয়ে...। এটা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা। শিখলাম পরবর্তী সময়ে আর বিশ্বাস করা যাবে না।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, যেহেতু সরকারের অংশ ছিলাম, আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে। দেখেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শত শত, হাজার হাজার আন্দোলন হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো অসহযোগিতা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার কোনো উদ্যোগ নিলেও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল তা বন্ধে চাপ প্রয়োগ করত বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলাপের সময় একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে বলল, ‘এটা করা যাবে না, এটা করলে এই জটিলতা, ওই জটিলতা। আমরা সহযোগিতা করব না।’ আমার মনে হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কঠোর ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল।’

শক্তি প্রয়োগ করে সমালোচনার কণ্ঠরোধের চেষ্টাকে দুঃখজনক অ্যাখ্যা দিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এটা সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে। 

ফরহাদ মজহার বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চাইলে বাহাত্তরের সংবিধানক বাতিল করতে হবে। সেকুলার ও দক্ষিপন্থি ধারার ঐক্যের সেতুবন্ধন ছাড়া টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না। 

শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪—উভয় চেতনাকেই ধারণ করে সামনে এগোতে হবে। সরকারের পতন ঘটানো এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন দক্ষতার বিষয়। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে কোনো সরকারই সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই ব্যর্থ বলে প্রচার পরিকল্পিত বয়ানের অংশ। মুক্তিযুদ্ধকে গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি দাঁড় করানো পরাজিত শক্তির প্রচারণা। অবদান নিয়ে প্রতিযোগিতা করা স্বার্থপরতা ও রাজনৈতিক অভদ্রতা। 

আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সাফল্য ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন। তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ।

পাঠকের মন্তব্য