হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি

হারুন অর  রশিদ, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর এলাকায় এক বিধবা নারীর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভুক্তভোগী জলি বেগম (৫৯) দাবি করেছেন, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বারবার তার জমি দখলের চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে হোমনা পৌর সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জলি বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত মোফাক্ষের আলী খান জীবিত থাকাকালে ১৯৯৬ সালের ৩৫৫৮ নম্বর দানপত্র দলিলের মাধ্যমে চান্দেরচর মৌজার ১১ শতক জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে তিনি প্রায় তিন দশক ধরে ভাড়া দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে নূর মোহাম্মদ জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর ২০২১ সালে তিনি বিএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালত উক্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে ১৪৫ ধারা জারি করেন। তবে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ এখনও জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

জলি বেগম আরও বলেন, অতীতেও তার ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে মারধরের ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং তিনি এ বিষয়ে থানায় মামলা করেন। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় চান্দেরচর চৌমুহনী বাজারে তার দোকানের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি হোমনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগ অস্বীকার নূর মোহাম্মদের

অভিযোগের বিষয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার দাবি, জলি বেগমের জমি ১৬ নম্বর দাগে, আর তার নিজস্ব জমি ১৫ নম্বর দাগে অবস্থিত।

তিনি জানান, ১৫ নম্বর দাগের জমিটি ১৯৮৩ সালে তার নানী তাকে দান করেন এবং ১৯৮৮ সালে জমিটি তার নামে রেকর্ড হয়। সে সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং তার বাবা প্রয়োজনীয় রেকর্ড কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে, তার বাবা ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে ১৬ নম্বর দাগের জমি পৃথক দুটি দলিলের মাধ্যমে জলি বেগমের নামে লিখে দেন বলেও তিনি দাবি করেন।

নূর মোহাম্মদের অভিযোগ, তার বাবা স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নতুন করে একাধিক দলিল তৈরি করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে দলিল ও আইনি নথির কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

পাঠকের মন্তব্য