পুলিশকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছি: সমাবেশে এনসিপি নেতা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক বলেছেন, ‘যে পুলিশ জনগণের টাকায় পরিচালিত হয়, সেই পুলিশকেই আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছি।’ একই সঙ্গে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের সমালোচনা করে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণঅভ্যুত্থানের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, ‘আমরা ইউএনও ও ওসিকে প্রশ্ন করতে চাই—২৬ জুলাইয়ের ঘটনা আপনারা দেখেননি? তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোতে আগুন দিয়েছে। যে পুলিশ জনগণের টাকায় পরিচালিত হয়, অথচ সেই পুলিশকেই আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছি—এ দৃশ্য কি আপনারা দেখেননি’।

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার রক্তের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন বিরোধী শক্তিকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।’ বর্তমানে প্রশাসনের মধ্যে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারি সহায়তা কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, টিসিবি ও ওএমএসের মতো সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বণ্টন না হয়ে বিভিন্ন নেতার মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ আনতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ‘এমপির কথা ছাড়া একটি ফাইলও নড়ে না, যা বৈষম্যমূলক’।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবদুল গনি। এতে সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য