রাস্তায় বখাটের লাথি খাওয়া স্কুলছাত্রীর ঠাঁই হলো না নিজ স্কুলেও

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে পেছন থেকে হঠাৎ এসে এক কিশোরের লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিচার চাওয়া ভুক্তভোগী চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিলো। এমন সময় পেছন থেকে এক কিশোর এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে আচমকা সজোরে লাথি মারে। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি ঘুরে প্রতিবাদ জানালে তাকে আবারও লাথি দেওয়া হয়। এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি সম্পূর্ণ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়সংলগ্ন ওয়াকওয়েতে কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী হাঁটছিলো। অভিযুক্ত কিশোর কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকে। তার বাবা রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবাও একজন পোশাক কারখানা শ্রমিক।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরকে স্থানীয় এক সালিশে কান ধরে ওঠবস করিয়ে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করিয়ে ক্ষমা প্রার্থীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

তবে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, এক মাস আগের এই ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হলে তার মেয়েকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার পরিবর্তে স্কুল চলাকালে বাইরে যাওয়ার অজুহাতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে টিসি ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে এখন তিনি মেযেকে অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য