আইসিসির বিশ্বকাপ ফরম্যাট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে সহযোগী দেশগুলোর অসন্তোষ
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১১ অগাস্ট, ২০২৬
আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন এনেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য যে হয়েছে, তা নয়। ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং রয়াল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএনসিবি-নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড) এই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে আসরের ফরম্যাট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এই দুই সহযোগী দেশ। গত মাসে আইসিসি প্রতিযোগিতায় একটি ‘সুপার সিরিজ’ পর্ব যুক্ত করে। যেখানে বাছাইপর্বের শীর্ষস্থানের পরের তিনটি দল অংশ নেবে। মানে ১২তম, ১৩তম এবং ১৪তম বাছাইপ্রাপ্ত দলগুলো একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে। সেখান থেকে কেবল একটি দলই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে ওঠার সুযোগ পাবে, যেখানে ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।
ফরম্যাট পরিবর্তনের এই ঘোষণার পর, ক্রিকেট স্কটল্যান্ড, কেএনসিবি এবং অন্যান্য সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) বোর্ডগুলো আইসিসির সঙ্গে দুটি বৈঠকে বসে। সেখানে তারা ‘এই পরিবর্তনের বিষয়ে লিখিত প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা’ দাবি করে। সোমবার দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং কেএনসিবি জানায়, ‘দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে’ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকের পর থেকে আইসিসির কাছ থেকে আর কোনো উত্তর মেলেনি, যা অত্যন্ত ‘হতাশাজনক ও অসম্মানজনক’।
উভয় বোর্ড জানিয়েছে, ‘এই পরিবর্তনগুলো সহযোগী সদস্য ক্রিকেটের জন্য এক ধরনের পিছিয়ে পড়া এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাটির বিশ্বব্যাপী প্রসারের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকিতে ফেলে। এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেট তার বিস্তার বাড়াতে, নতুন দর্শক টানতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিমণ্ডলে অবস্থান শক্ত করতে চাইছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল বার্তা পাঠায়।’
তারা আরও যোগ করে, ‘বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং কেএনসিবি আইসিসি ও সহ-সদস্যদের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, এই পরিবর্তনের প্রভাব এবং যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি আনা হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
‘পরিবর্তনের ঘোষণার পর আমরা আইসিসির সঙ্গে দুটি বৈঠক করি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পরিকল্পনা বৈঠকে আমন্ত্রণের আহ্বান জানাই। তবে দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।’
গত মাসে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের অধিনায়করাও ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এরপর নামিবিয়া ক্রিকেটের প্রধান রুডি ভ্যান ভুরেন খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি মানিয়ে নিয়ে টি-টোয়েন্টিকে ক্রিকেটের মূল বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস তাদের বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেয় যে সহযোগী সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে। এত বড় সিদ্ধান্ত কোনো অর্থবহ আলোচনা ছাড়াই অন্তত পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। টুর্নামেন্টের মাত্র ১৮ মাস আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমাদের মতো সীমিত সম্পদের সংস্থাসমূহ আর্থিক ও পরিচালনগত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ সহযোগী দেশগুলোর জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ, খেলোয়াড় তৈরি এবং স্পন্সরশিপ পাওয়ার বড় ক্ষেত্র। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর অন্যতম সেরা মুহূর্তগুলো তখনই এসেছে যখন সহযোগী সদস্যরা পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের পরাজিত করেছে। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সফলতা অর্জিত হয়। আমরা আইসিসিকে আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসে।’